kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবি, মৃত্যু বেড়ে ১৯

নিখোঁজ কমপক্ষে ৫০, তদন্ত কমিটি

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া    

২৭ আগস্ট, ২০২১ ২০:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবি, মৃত্যু বেড়ে ১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লইসক্যা বিলে যাত্রী ও বালুবাহী দুই ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যাওয়ায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাত ৯টা পর্যন্ত ১৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। তখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর থেকে আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অন্তত ৭০ জন যাত্রী নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে একটি ট্রলার। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সেটি লইসক্যা বিলে পৌঁছার পর বিপরীত দিক থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। যাত্রীদের কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছে। বালুবাহী ট্রলারটি দুর্ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরে আটক করেছে স্থানীয়রা।

দুর্ঘটনাটি ঘটে বিলের মাঝামাঝি স্থানে। আশপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে তেমন কোনো বাড়িঘরও নেই। ফলে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। দুর্ঘটনার পর প্রথমেই স্থানীয় লোকজন একাধিক নৌকাযোগে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ট্রলারযোগে ঘটনাস্থলে আসে, কিন্তু বিলের ওই স্থানে ঘন অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটে।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান ও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান স্পিডবোটে দুর্ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল এসে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। তারা জেনারেটরের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করার পর উদ্ধারকাজে গতি আসে। তবে ওই সময় পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের দলে কোনো ডুবুরি ছিলেন না। আর দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারটি তখন পর্যন্ত বিলের পানির নিচে রয়েছে।

রাত ৯টা পর্যন্ত ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাদের মধ্যে ১১ জন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতদের মধ্যে ছয় নারীর নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন অঞ্জনা বিশ্বাস, ফরিদা বেগম, মিনারা বেগম, মঞ্জু, মোমেনা ও রওশন আরা।

তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁজ যাত্রীর সঠিক পরিসংখ্যানও জানা যায়নি। তবে সাঁতরে তীরে উঠে আসা এবং উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। 

জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রী ফারুক মিয়া জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার পথে বালুবাহী নৌকার ধাক্কায় তাঁদের ট্রলারটি ডুবে যায়। তিনি আহত অবস্থায় তীরে উঠে আসতে পারলেও স্ত্রী ও মেয়ের খোঁজ পাচ্ছেন না।

মুরাদ মিয়া নামের আরেক যাত্রী জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে তাঁরা দুর্ঘটনায় পড়েন। তিনিসহ আরো বেশ কয়েকজন কোনো রকমে সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছে।

আঁখি আখতার নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমাদের বহনকারী ট্রলারটি অন্তত ৭০ জন যাত্রী নিয়ে বিজয়নগরের চম্পকনগর থেকে বিকেল সাড়ে ৪টায় ছেড়ে আসে। নৌকায় করে আমি, আমার ছেলে, ভাশুরের ছেলে ও শাশুড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসছিলাম। পথে একটি বালুবোঝাই ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে আমাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। আমি সাঁতরে কূলে উঠতে পারলেও আমার ছেলে, ভাশুরের ছেলে ও শাশুড়ির এখনো সন্ধান পাইনি।’

স্থানীয় উদ্ধারকারীদের একজন মনিপুর গ্রামের কবির মিয়া। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে নৌকাযোগে তারা কয়েকজন দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এ ছাড়া ১০ থেকে ১৫ জনকে অর্ধমৃত অবস্থায় স্বজনরা নিয়ে গেছে। আমাদের পরপরই আরো অনেকে নৌকাযোগে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।’



সাতদিনের সেরা