kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে ইলিশ নেই

দিন-রাত জাল ফেলেও উঠছে দু-একটি ইলিশ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৭ আগস্ট, ২০২১ ১৭:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিন-রাত জাল ফেলেও উঠছে দু-একটি ইলিশ

এক সময় সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ত জেলেদের জালে। আর সেই রূপালি ইলিশ আসত মোংলা বাজারে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এসব নদীতে ইলিশ মাছ না পাওয়ায় হতাশ এখানকার জেলেরা।

গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলের কাছাকাছি ইলিশ না আসা, সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া আর গভীর সাগরে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের সীমানায় মাছ শিকারের কারণে মোংলাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে ইলিশের দেখা নাই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও বিশেষজ্ঞরা।

ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও এখন পর্যন্ত জেলেদের জালে ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না। জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। এ অঞ্চলের হাট বাজারগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে বরিশাল ও চট্টগ্রামের ইলিশ।

স্থানীয় জেলে সমিতির সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল জানান, সুন্দরবন উপকূলের এ সব নদ-নদীর ইলিশের ওপর নির্ভরশীল প্রায় এক লাখ জেলে পরিবার। চলতি ভরা মৌসুমে ইলিশ না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র হতাশা। দিন-রাত জাল ফেলে ও নদীতে দাপিয়ে দু-একটি ইলিশ ধরা পড়লেও তা আকারে ছোট। ইলিশের দেশখ্যাত সুন্দরবন উপকূলের হাট-বাজারেও তেমন ইলিশ উঠছে না।

মোংলা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নদীতে ইলিশ না পাওয়ার ব্যাপারে আমাদের কাছে গবেষণামূলক তথ্য না থাকলেও মনে হচ্ছে গভীর সমুদ্র (বঙ্গোপসাগর) থেকে ইলিশ না আসায় নদীতে জেলেরা ইলিশ মাছ কম পাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) স্থানীয় সমন্বকারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নুর আলম শেখ বলেন, বন্দরে আসা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে বর্জ্য ফেলায় নদী দূষণ এবং সুন্দরবনের বিষ দিয়ে মাছ শিকারের কারণে ইলিশের আকাল পড়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে এবং আইন মেনে বাণিজ্যিক জাহাজের বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরো কঠোর হওয়ার দাবি জানান তিনি।

জেলে সূত্র জানায়, চলতি ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে জেলেরা ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি নেয়। মহাজন ও আড়ৎদারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে জাল-নৌকাসহ খাওন-খোরাক গোছগাছ করে জেলেরা নদীতে নেমেছে। কিন্তু সুন্দরবন এলাকার পশুর, বলেশ্বর, কচা, শিবসা, পানগুছি ও বিষখালী নদীতে এখন পর্যন্ত ইলিশের দেখা মিলছে না।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. গাউছিয়াতুর রেজা বানু বলেন, ‘নদী দূষণ, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ নদীর গভীরতা না থাকায় সাগর থেকে ইলিশ আসছে না।

তিনি আরো বলেন, ‘ইলিশ সাধারণত গভীর সমুদ্রে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু মোংলা ও সুন্দরবনের নদী সহনীয় পর্যায়ে না থাকায় ইলিশ আসছে না। ইলিশ রক্ষায় প্রাথমিকভাবে নদী শাসন করতে হবে এবং এটা নিয়ে আরো গবেষণা করে ইলিশ সুন্দরবনের নদীমুখী করতে হবে।



সাতদিনের সেরা