kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয় রক্ষা না করে স্থানান্তর, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    

২৭ আগস্ট, ২০২১ ০৮:৫০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয় রক্ষা না করে স্থানান্তর, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নদীভাঙনের হাত থেকে বিদ্যালয় ভবন না করে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

'সচেতন নাগরিক সমাজ'র ব্যানারে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডে ২ নম্বর  পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এসএমসির সদস্যসহ বিদ্যালয় এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ বৃষ্টিতে ভিজে মানববন্ধনে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পাইকেরছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গাজিউর রহমান অভিভাবক রমিচ উদ্দিন, মরিয়ম ও আলমগীর হোসেন। পরে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ২ নম্বর পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন ও ফেরদৌসী বলে, 'বিদ্যালয়টি দূরে নিয়ে গেলে আমাদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হবে।' অভিভাবক রমিছ উদ্দিন, মরিয়ম ও আলমগীর হোসেন বলেন, 'বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নিলে আামাদের ছোটছোট ছেলে-মেয়েদের দূরের স্কুলে যেতে সমস্যা হবে। এতে আমাদের এলাকার শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তাছাড়া স্কুলটিকে যেখানে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তার পাশে আরো একটি স্কুল আছে। আমরা চাই স্কুল যেখানে আছে সেখানেই থাকুক।'

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গাজিউর রহমান বলেন, 'বিদ্যালয় এলাকার নদীভাঙন রোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে জানতে পেরেছি। তার পরও কেন বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে? এটা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও দুঃখজনক। এতে চরাঞ্চলের শিশুদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটবে।' জনস্বার্থে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর না করার দাবি জানান তিনি।

২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দুধকুমোর নদের ভাঙনের তীর থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছে। বিদ্যালয়টির মাঠের বেশিরভাগ অংশ নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে  বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যালয়টি রক্ষায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করছে, যা এখন প্রক্রিয়াধীন। তার পরও বিদ্যালয়টিকে অন্য জায়গায় সরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাই স্কুলটি যাতে অন্যত্র সরিয়ে না নিতে পারে সেজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, 'বিদ্যালয়টি স্থানান্তর না করার দাবিতে এলাকাবাসী একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।' 



সাতদিনের সেরা