kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাঞ্ছারামপুরে বসুন্ধরার খাদ্য সহায়তা ৩ হাজার পরিবারকে

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি    

২৫ আগস্ট, ২০২১ ০৩:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঞ্ছারামপুরে বসুন্ধরার খাদ্য সহায়তা ৩ হাজার পরিবারকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অসহায়দের হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সহায়তা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা শমসাদ বেগমসহ অতিথিরা।

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির বৈরী পরিবেশে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। এই দুঃসময়ে দেশজুড়ে খাদ্য সহায়তার উপহারসামগ্রী নিয়ে কর্মহীন অসহায় এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুর্গারামপুর গ্রামে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তিন হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ১০ কেজি চাল, তিন কেজি ডাল ও তিন কেজি আটার প্যাকেট। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে খাদ্য সহায়তার এসব উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণের এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শুভসংঘের সভাপতি বাবু তপন চন্দ্র সূত্রধর, প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা শমসাদ বেগম। অন্যদের মাধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক ও বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সুলতানা মরিয়ম, বাঞ্ছারামপুর সোবহানিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমীন আব্দুল্লাহ, বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী, বসুন্ধরা গ্রুপের ডিজিএম মাইমুন কবির, বসুন্ধরা গ্রুপের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোশারফ হোসেন, সিনিয়র অফিসার মো. জামাল উদ্দীন, মো. আনোয়ার হোসেন আনোয়ার, মো. শাহজাহান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ও বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. চাঁন মিয়া সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা শমসাদ বেগম বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ মানবসেবায় অনেক এগিয়ে; যার বাস্তব চিত্র আজ আপনারা দেখছেন। মহামারি করোনার কারণে কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা অনেক বড় মানবিক কাজ। বাঞ্ছারামপুরের মতো দেশজুড়ে বসুন্ধরা গ্রুপ এই খাদ্য সহায়তার উপহারসামগ্রী বিতরণ করছে। বসুন্ধরা গ্রুপের কল্যাণ কামনা করছি। বসুন্ধরা গরিব মানুষকে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে আশা করছি।’

বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সহায়তার উপহারসামগ্রী পেয়ে বৃদ্ধা রহিছা বেগম আনন্দে কেঁদে ফেলেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলে, ‘এত বড় খাবারের বস্তা আমারে আর কেউ দেয় না। আমি হগলের লাগি দোয়া করি।’

খাদ্য সহায়তা পেয়ে দিলবরের নেছা (৫০) বলেন, ‘হাত ভাইঙ্গা না খাইয়া চলতাছি। বসুন্ধরা অনেকটি খাবার দিছে। আল্লাহ যেন সবাইরে ভালা রাখে।’

দিনমজুর বৃদ্ধ রব্বান মিয়া বলেন, ‘করোনার সময় কেউর কাছে টেহা হাওলাত চাইলেও দেয় না । খাইয়া, না খাইয়া আছি। কেউ দেহেও না। বসুন্ধরা আমরারে খাবার দিছে। বসুন্ধরার হগলের লাগি দুই হাত তুইল্লা আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’

খাদ্য সহায়তার উপহারসামগ্রী বিতরণের পুরো কাজ সমন্বয় করেছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কালের কণ্ঠ শুভসংঘ ও বাঞ্ছারামপুরের বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।



সাতদিনের সেরা