kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

উল্টো হামলাকারীরাই মানববন্ধনে! জমি দখলের অভিনব কৌশল

►তারাকান্দায় জমি দখলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের ওপর হামলা ►সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরোধ চরমে ►সঠিক বিচার চায় উভয় পরিবার

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ আগস্ট, ২০২১ ১৫:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উল্টো হামলাকারীরাই মানববন্ধনে! জমি দখলের অভিনব কৌশল

ময়মনসিংহ তারাকান্দা জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় ১৫ দিন পার হলেও গ্রেপ্তার হয়নি হামলাকারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী হামলাকারীরা সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে মামলা থেকে বাঁচতে গতকাল সোমবার তারাকান্দায় পাল্টা মানববন্ধন করেন। হিন্দু পরিবারের জমি দখল নিতে এটি ভূমিদস্যুদের অভিনব কৌশল বলে মনে করেন স্থানীয়রা।  

জানা যায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রতিপক্ষ রবিদাস স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে জমি বিক্রি করে দেন। গত ৯ আগস্ট প্রতিপক্ষের লোকজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বাঁধা দিলে তারাকান্দা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কমরেড আবুল হাশেমের পুত্র ইমামুল হক নান্টুর ডান পা ভেঙে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় তারাকান্দা থানায় অভিযোগ দিলেও সঠিক বিচার না পেয়ে ১৮ আগস্ট মামলা ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গোপালপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।  
   
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্রয়কৃত ও দখলীয় ভূমি তার পরিবার ভোগদখল অবস্থায় বিআরএস রেকর্ডমূলে জনৈক এক রবিদাস সম্প্রদায় ব্যক্তির নামে কিছু অংশ রেকর্ড হয়। বিআরএস রেকর্ডমূলে ওই রেকর্ডভুক্ত রবিদাস পরিবারের ওয়ারিশান উক্ত জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের  কাছে হস্তান্তর করেন।
 
গত ৯ আগস্ট তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সিও তারিকুল ইসলাম ঝিনুকের নেতৃত্বে ১৩/১৪ জন লাঠিসোটা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমিতে সীমানা খুঁটি স্থাপন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও সংঘর্ষ হয়। এসময় ভূমি দস্যুরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিমের পুত্র ইমামুল হক নান্টুকে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেয়।  

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দাবি, জমির কাগজে ত্রুটি থাকলে সঠিক বিচার করে উভয় পরিবার যা পাবে তা মেনে নিতে রাজি। প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে একসাথে বসবাস করে আসে উভয়পক্ষের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করছে। স্থানীয়ভাবে মামলা না নিলেও আদালত মামলা নেওয়ায় আমরা ন্যায়বিচার আশা করি। হিন্দু পরিবার কেউ এ হামলায় জড়িত নয়। ভুমিদস্যুদের আসামি করে মামলা করছি।  

স্থানীয়রা জানান, এ সময় বাজারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ইমামুল হককে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসার জন্য ফুলপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ব্যপারে আহত ইমামুল হক নান্টুর বড়ভাই এমদাদুল হক মিন্টু বাদী হয়ে ওই দিন বিকালে তারিকুল ইসলাম ঝিনুকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। 
 
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান  এমদাদুল হক মিন্টু জানান, প্রতিপক্ষ রবিদাস স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে জমি বিক্রি করে দেয় ভুয়া কাগজ করে। আমার পিতার ক্রয় করা ও আমাদের ভোগদখলীয় জমিতে ভূমিদস্যুরা বেদখলের উদ্দেশ্যে আসলে আমরা বাধা দেই। এ সময় ভূমিদস্যুরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে এবং পিটিয়ে আমার ছোট ভাইয়ের পা ভেঙে দেয়। 
 
রবিদাস পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমির বিরোধে নিজের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা জানতে চাইলে অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম বলেন, সেখানকার হিন্দুদের নিরীহ লোকজন জমির কাগজপত্র বোঝেন না। আমি এ ব্যাপারে তাদের সহায়তা করছি। নিজের জমি ক্রয়ের ব্যাপারে তিনি জানান, আমার পরিবারের লোকজনসহ ৬ জন মিলে এ জমি ক্রয় করেন।  



সাতদিনের সেরা