kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

করোনার প্রভাব: পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে পিছিয়ে বিশ্বের ৬৭তম চট্টগ্রাম বন্দর

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৪ আগস্ট, ২০২১ ০৫:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার প্রভাব: পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে পিছিয়ে বিশ্বের ৬৭তম চট্টগ্রাম বন্দর

কন্টেইনার পণ্য উঠানামায় বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর এখন ৬৭তম। ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট রাতে প্রকাশিত তালিকায় ৯ ধাপ পিছিয়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দর। ২০২০ সালের তালিকায় এই বন্দরের অবস্থান ছিল ৫৮তম; অর্থাৎ ৯ ধাপ পেছাল। মূলত করোনা মহামারির ধাক্কায় তালিকা থেকে পিছিয়ে গেছে বলছে চট্টগ্রাম বন্দর। আর লয়েডস কর্তৃপক্ষ সেটি প্রতিবেদনে চিহ্নিত করেছে।

লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক পুরনো গণমাধ্যম ‌'লয়েডস লিস্ট' প্রতিবছর এই তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় শুধুমাত্র কন্টেইনার উঠানামার হিসাব কষেই প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর ২০১০-২০১৯ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ৮৮, ৮৯, ৯০, ৮৬, ৮৭, ৭৬, ৭১, ৭০, ৬৪ ও ৫৮ তম স্থান অর্জন করে। এ নিয়ে গত এক দশকে ৩০ ধাপ এগিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর। সর্বশেষ ২০২০ সালে ছয় ধাপ এগিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু করোনার ধাক্কায় এবার পেছাল।

এই তালিকায় বরাবরের মতোই প্রথম স্থানে চীনের সাংহাই বন্দর; দ্বিতীয় স্থানে আছে সিঙ্গাপুর, আর তৃতীয় স্থানে আছে চীনের নিংবো-জোশান। শুধু তাই নয় ১ থেকে ১০ বন্দরের তালিকায় তিনটি বন্দর ছাড়া বাকি সবই চীনের বন্দর।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. শাহজাহান বলেন, ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামার তালিকা ধরেই এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই সময়ের মার্চ থেকে করোনা মহামারির ধাক্কায় চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যাপক জট লেগেছিল। এই কারণে গত বছর পণ্য উঠানামার প্রবৃদ্ধি কমে গিয়েছিল।

তিনি বলছেন, ২০২১ সালের জানুয়ারি-আগস্ট আট মাসে আমরা ২৪ লাখ একক কন্টেইনার উঠানামা করেছি; ডিসেম্বর পর্যন্ত বাকি চার মাসসহ মোট ৩৩ লাখ একক কন্টেইনার উঠানামা করব বলে আশা রাখছি। সেই রিপোর্ট প্রকাশ পাবে ২০২২ সালে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. শাহজাহান জোর দিয়ে বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা-গতিশীলতার কোনো ঘাটতি ঘটেনি। এর প্রমাণ ২০২১ সালের পণ্য উঠানামার চিত্রে দেখা গেছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা-পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছি শুধুমাত্র কোনো রেকর্ডের আশায় নয়। প্রধান লক্ষই হচ্ছে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা।

জানা গেছে, রয়েডস লিস্টে ১০০ বন্দরের তালিকায় ১০টিতেই আছে চীনের সাতটি বন্দর। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে আছে সিঙ্গাপুর। শীর্ষ ১০ বন্দরের মধ্যে ৭ নম্বরে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার ভুষান বন্দরের পণ্য উঠানামা কমেছে; নয় নম্বরে থাকা হংকং বন্দরেও পণ্য উঠানামা কমেছে। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের মুম্বাই বন্দর আছে ৩৯ নম্বরে; সেই বন্দরেও পণ্য উঠানামা কমেছে।

শিপিং লাইনগুলো বলছে, করোনার কারণে মার্চ থেকে আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্য উঠানামায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই কয়েক ধাপ পিছিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এখানে বন্দরের পারফরম্যান্সের কোনো ঘাটতি নেই।

জিবিক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বিশ্লেষণ করে বলেছেন, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে আমরা স্বাভাবিক সময়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার একক পণ্য রপ্তানি করতাম। কিন্তু করোনার কারণে সেটি নেমেছে ১৩ হাজার এককে। সেই ধাক্কা স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছে। সেই সময়ে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে চট্টগ্রামমুখী বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্যের জট লেগেছিল। সেই সময়ে জাহাজগুলো চট্টগ্রাম আসতে দেরি করেছে। এতে আমদানি পণ্য আসা কমেছে। এসবের প্রভাব পড়েছে মোট পণ্য উঠানামায়।

মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, করোনা মহামারিতে চট্টগ্রাম বন্দরের পারফরম্যান্সের ঘাটতি আমি দেখছি না। বন্দর-বন্দর ব্যবহারকারী সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই কঠিন-চ্যালেঞ্জিং সময়েও অজানা এক মহামারি আমরা মোকাবোলা করেছি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের ৯৮ শতাংশ কাজ পরিচালিত হয় এ বন্দর দিয়ে। এ বন্দর দিয়ে যত পণ্য পরিবহন হয়, তার ২৭ শতাংশ কন্টেইনারে আনা–নেয়া হয়। বাকি ৭৩ শতাংশই আনা-নেওয়া হয় কন্টেইনারবিহীন সাধারণ জাহাজে। সাধারণ জাহাজের (বাল্ক, ব্রেক বাল্ক ও ট্যাংকার) খোলে আমদানি হয় মূলত সিমেন্ট, ইস্পাত ও সিরামিক কারখানার কাঁচামাল এবং পাথর, কয়লা, ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল।



সাতদিনের সেরা