kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ছেলের আত্মহত্যা, লাশ নিয়ে উধাও মা!

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৪ আগস্ট, ২০২১ ০১:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ছেলের আত্মহত্যা, লাশ নিয়ে উধাও মা!

প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার লাকসামে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাদল (১৮) নামে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লাকসাম (পূর্ব) ইউনিয়নের নরপাটি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাকির হোসেন পন্ডিতের বাড়িতে।

নিহত ওই কিশোর কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ব্র্যাক কার্যালয়ের অধীন নরপাটি শাখার মাঠ কর্মকর্তা (পিও) নাসরিন আক্তারের ছেলে। নিহত বাদলের বাবা কাউছারও কুমিল্লার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাঁদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্র্যাক’র ওই নারী কর্মকর্তা চাকরির সুবাদে উপজেলার নরপাটি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাকির হোসেন পন্ডিতের বাড়িতে ছেলে বাদলকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। নাসরীন আক্তারের স্বামী কাউছার মাঝে মধ্যে স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ-খবর নিতে এখানে আসতেন।

সূত্র আরো জানায়, ঘটনার দিন সোমবার (২৩ আগস্ট) সকালে ছেলে বাদলকে বাসায় রেখে মা নাসরিন আক্তার কর্মস্থলে যান। দুপুরে অফিস থেকে ফিরে বাসায় এসে দেখেন, তাঁর ছেলে বাদল ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে রয়েছে। 

এ সময় তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে (বাদলকে) উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে নিহত বাদলের মা নাসরিন আক্তার সন্তানের লাশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নিজ গ্রামের নিয়ে যায়। তবে তাদের গ্রামের নাম জানা যায়নি।

আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাকির হোসেন পন্ডিত জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ি ছিলেন না। পরে জেনেছেন তাঁর বাড়িতে ভাড়া থাকা ব্র্যাক’র নারী কর্মকর্তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পর পরই পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ওই নারী ছেলের লাশ নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে ছেলে বাদলের প্রেমের সম্পর্কে নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ধারণা করা হচ্ছে ওই কথা কাটাকাটির জের ধরে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ছেলে আত্মহত্যা করেছে।

এদিকে খবর পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও লাশ না পেয়ে থানায় ফিরে যান।

অপরদিকে নিহত বাদলের মা নাসরিন আক্তারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ছেলের লাশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছি। পরে কথা বলবো ভাই।

এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, একটি আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ পাওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা