kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

পানির মিটারে চোরের হানা

মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা    

২৩ আগস্ট, ২০২১ ০৯:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পানির মিটারে চোরের হানা

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় সরবরাহ করা পানির অপচয় রোধ করতে গ্রাহকদের বাড়িতে বাড়িতে মিটার বসানোর উদ্যোগ নেয় চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ গ্রাহকের বাড়িতে মিটার স্থাপনের কাজ শেষও হয়েছিল। কিন্তু মিটারগুলো চালু করা হয়নি। এ অবস্থায় মিটারগুলো চুরি হওয়া শুরু হয়।

রাতের অন্ধকারে চোর এসে মিটার খুলে নিয়ে চলে যায়। কোনো কোনো বাড়ি থেকে মিটার খুলতে না পেরে ভেঙে ভেতরের যন্ত্রাংশ নিয়ে যায় চোর। এভাবে চালু হওয়ার আগেই একে একে প্রায় অর্ধেক মিটারই চুরি হয়ে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, ২০১৯ সালের ৩০ জুন পৌর এলাকায় গ্রাহকদের বাড়িতে বাড়িতে পানির মিটার স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ চলমান ছিল। সাত হাজার ৪৮ জন গ্রাহকের মধ্যে ছয় হাজার ৪০০ গ্রাহকের বাড়িতে মিটার স্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

কাজ শুরুর পর থেকে পাঁচ হাজার ৮০০ গ্রাহকের বাড়িতে মিটার স্থাপনের কাজ শেষ করা হয়। মাত্র ৬০০ মিটার স্থাপনের কাজ বাকি ছিল। মিটার লাগানোর কাজ শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা চালু হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই চুরির কারণে তা চালু হওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রজব আলী বলেন, মিটারবক্স খুব বেশি মজবুত না হওয়ায় খুব সহজেই তা ভেঙে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। মিটার ভেঙে  ভেতরের অংশ নিয়ে যাচ্ছে চোর। ভেতরে থাকা যন্ত্রাংশ  তারা বিক্রি করে দিচ্ছে ভাংড়ি লোহালক্করের দোকানে।

পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়ার পানির গ্রাহকরা বলেন, কোনো রাতে একটি কিংবা দুটি, কোনো রাতে ১০-১২টি করে পানির মিটার চুরি হতে হতে স্থাপন করা বেশিরভাগ মিটারই চুরি হয়ে গেছে। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মিটার খুলে নিয়ে গেছে চোর। এ ব্যাপারে পৌরসভা কিংবা থানা কর্তৃপক্ষকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

গত বছরের জুন মাসের দিকে শুরু হয় মিটার চুরি। প্রতিরাতে একটি দুটি করে মিটার চুরি হতে থাকে। এখনো এই চুরি অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেকের বেশি মিটার চুরি হয়ে গেছে। মিটার চুরি হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে। পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে গ্রাহককে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কোনো গ্রাহকের বাড়িতেই পানির মিটার ছিল না। বিল হতো পানির পাইপের মাপ অনুযায়ী। বেশিরভাগ গ্রাহক এক ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপ ব্যবহার করেন। এক ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপের ক্ষেত্রে পানি যতই ব্যবহার হোক বিল দিতে হবে মাসে ১৬০ টাকা। মিটার লাগানো সম্পন্ন হলে পানির ব্যবহার অনুযায়ী বিল হতো। এতে পানির অপচয় কমতো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর এলাকার মলিস্নকপাড়া, বাগানপাড়া, পুরাতনপাড়া, মাস্টারপাড়া, শেখপাড়া প্রভৃতি এলাকার বেশিরভাগ মিটার চুরি হয়ে গেছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিভাবে মিটার স্থাপন করে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এজন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো খরচ নেওয়া হয়নি। গ্রাহকদের বাড়ির বাইরে যেনতেনভাবে স্থাপন করার কারণে চোরদের পক্ষে চুরি করা সহজ হয়েছে। কোনো কোনো গ্রাহকের বাড়ির ভেতরে মিটার স্থাপন করা হয়েছে। তা সংখ্যায় খুবই কম। সেগুলো বেশিরভাগই চুরি হয়নি।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) এ এইচ এম সাহীদুর রশিদ বলেন, ইতোমধ্যে দুহাজারের মতো মিটার চুরি হয়ে গেছে। তার বেশিও হতে পারে। সব গ্রাহক থানায় গিয়ে অভিযোগ করেননি। মিটার চুরি শুরম্ন হলে আমরা থানা কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করি। গ্রাহকদের দিয়ে থানায় জিডি করানো হয়। চোরের কারণে পানির মিটার চালুর প্রক্রিয়াটিই ভেস্তে যেতে বসেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান বলেন, 'গত কয়েক মাসে আমরা যাদের আটক কিংবা গ্রেপ্তার করেছি, তাদের মধ্যে পানির মিটার চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজনকে পাওয়া গেছে। যথাযথ মামলায় আমরা তাদের আদালতে সোপর্দ করেছি। এখন আর মিটার চুরির কোনো অভিযোগ আসছে না।'  

 



সাতদিনের সেরা