kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

একটি সরকারি ঘর পাওয়ার অপেক্ষায় বিধবা শুকুরজান

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০২১ ০৮:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি সরকারি ঘর পাওয়ার অপেক্ষায় বিধবা শুকুরজান

ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও অসহায় দরিদ্রদের মাঝে আশ্রয়ণ ও দুর্যোগসহনীয় ঘর দেওয়া হয়েছে কয়েক ধাপে। এতে অনেক বিত্তশালীও ঘর পেয়েছে। কিন্তু অন্যের বাড়িতে থাকা এক বিধবার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি একটি ঘর। ওই বিধবা থাকেন অন্যের জমিতে ছয়টিনের একটি জরাজীর্ণ ছাপরা ঘরে। ওই ঘরেই তিনি রান্না করেন আবার খাওয়াদাওয়াও সারেন। বৃষ্টি নামলেই জরাজীর্ণ ঘরে বিধবার ঘুম হারাম হয়ে যায়। এমনই এক মানবেতর জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে বিধবা শুকুরজান।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের হাতকোড়া গ্রামের অধিবাসী বিধবা শুকুরজান। তার বাবা দরিদ্র দরবার বেপারী তাকে বিয়ে দিয়েছিলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর শুকুরজান কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও অভাবের তাড়নায় স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন সাভারে। তার স্বামী রিকশা চালানোর পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজও করতেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে নুর হোসেন (২৮) নামে একটি ছেলে রয়েছে। তার স্বামী সাভারের রানা প্লাজায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় মারা যান।

এরপর বিধবা শুকুরজানের প্রতি কেউ আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়াননি। ছেলেকে নিয়ে সাভার থেকে চলে আসেন শুকুরজানের জন্মস্থান হাতকোড়া গ্রামে। মা-বাবাও মারা গেছেন অনেক আগে। বাবার জমিজমাও ছিল না। ফলে ঠাঁই হয় তার প্রতিবেশী ফজল মিয়ার বাড়িতে। সেখানে ধার-দেনা করে ছয়টিনের একটি ছাপরা ঘর তুলে আছেন শুকুরজান।

এরপর চলে তার বেঁচে থাকার জীবনসংগ্রাম। ইটভাটা থেকে শুরু করে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেই সংসার চালাতে হচ্ছে শুকুরজানের। ছেলেও বড় হয়ে অন্যত্র বিয়ে করে গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে ইটভাটায় কাজ করে চার সদস্যের সংসার চালাচ্ছে। নিজের সংসারের ঘানি টানার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাকে ভাত-কাপড় দেওয়ার মতো বাড়তি কোনো আয় নেই শুকুরজানের ছেলে নুর হোসেনের। এভাবে চলে আসছে শুকুরজানের জীবন। দীর্ঘ ৫৬ বছরেও নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি শুকুরজানের। অন্যের বাড়িতে ছয়টিনের ছাপরা ঘরই তার ঠিকানা। সরকার থেকে একটি ঘর কিংবা কোনো গুচ্ছগ্রামে বা আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় পাওয়ার দাবি তার।

শুকুরজান বলেন, 'আমারে যদি সরকার থেকে একটি ঘর দিত বা কোনো গুচ্ছগ্রামে থাকার ব্যবস্থা করে দিত ত্যালে আমার খুব ওপুকার অইত। হুনছি সরকার থ্যাইকা ঘর দেয়, কিন্তু আমার তো জমিও নাই বাড়িও নাই, ত্যালে কি আমি একটা ঘর পামু?।'

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মোল্লা বলেন, অসহায় শুকুরজানকে কোনো গুচ্ছগ্রাম কিংবা আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দিলে ছেলেকে নিয়ে থাকতে পারত। সে ঘর পাওয়ার উপযোগী বিধবা এক নারী।

ধামরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে বিধবা শুকুরজানকে একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।



সাতদিনের সেরা