kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

আড়মোড়া ভেঙে খুলেছে দ্বার, সুসময়ের প্রতীক্ষায় কাপ্তাই হ্রদ

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

২০ আগস্ট, ২০২১ ১৯:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আড়মোড়া ভেঙে খুলেছে দ্বার, সুসময়ের প্রতীক্ষায় কাপ্তাই হ্রদ

হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটির পর্যটনের খ্যাতি বেশ। বছরজুড়েই নানান মৌসুমে দেশি পর্যটকের পদভারে বেশ মুখরই থাকে এই জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। শহর লাগোয়া ব্যস্ততম দর্শনীয় স্থানগুলো থেকে শুরু করে দূরের পাহাড়কন্যা সাজেক অবধি বছরজুড়ে দাপিয়ে বেড়ায় লাখো পর্যটক। কিন্তু কভিড মহামারিতে দৃশ্যত স্তব্ধ পাহাড়ের পর্যটন ১৯ আগস্ট থেকে ফের আড়মোড়া ভেঙে খুলেছে দ্বার।

তবে শুরুর দিনে চিত্রে মোটেও খুশি নন এই শিল্পের নানান ক্ষেত্রে ব্যবসা করা সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন কর্তৃপক্ষ, হোটেল মালিক ও বোট চালক, সবার কণ্ঠেই মিলল শুরুর দিনের চিত্রে ‘হতাশা’র গল্প। টানা বন্ধে বিপর্যস্ত খাতটি ঘুরে দাঁড়াতে আরো বেশ খানিকটা সময় প্রতীক্ষাই করতে হবে, বলছেন তারা। কেই কেউ বলছেন, আগামী অক্টোবরে শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুম আসলেই আদতে বোঝা যাবকতটুকু ঘরমুখীনতা ছেড়ে ফের বাইরে বেড়াতে বের হবে দেশি পর্যটক।

রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া। গেলো ক’বছর ধরে নানান ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দিয়ে পর্যটক আকর্ষণে ভূমিকা রাখছিলেন সরকারি পর্যটন বিভাগের এই কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার বেশ হতাশ কণ্ঠেই জানালেন, এই সময়টাকে আমাদের মাসে ন্যূনতম ৩৫-৪০ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। কিছুই তো হলো না গত ক’মাসে। বৃহস্পতিবার খোলার দিনের চিত্রও বেশ হতাশার। মোটেলে তেমন একটা বুকিং নেই, ভ্রাম্যমাণ পর্যটকও নেইই বলা যায়। এই অবস্থা কাটতে সময় লাগবে আরো।

সৃজন বিকাশ বলছেন, সম্ভবত আগামী অক্টোবরে পর্যটন মৌসুম শুরু হলে মানুষ হয়ত বের হবে আবার। আগামী কদিনের চিত্র দেখলে কিছুটা বুঝা যাবে। আসলে কভিড তো এখনো আমাদের ছেড়ে যায়নি। মৃত্যুভয়ের আতংক নিয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিনই বৈকি। তবুও আমাদের আশাবাদ থাকছে আসন্ন পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে। দেখা যাক কি হয়। গত তিনমাসেই নিজেদের কোটি টাকার ক্ষতির কথা জানালেন তিনি।

তিন দশক ধরে কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকদের নৌ বিহারের বোটের ব্যবসায় জড়িত রমজান আলী। পর্যটন ঘাটের প্রায় শতাধিক বোট আর এর বাইরের আরো বিভিন্ন ঘাটের কয়েক শ ট্যুরিস্টবোটের চালকদের জীবন আর জীবিকার ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, খুব খুশি হয়েছিলাম লকডাউন তুলে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটনকেন্দ্রসমূহ চালু করায়। কিন্তু ১৪০ দিন পর বৃহস্পতিবার প্রথমদিন মাত্র ৫টি বোট ভাড়ায় গেছে সারা দিনে। বাকিরা আশায় বুক বেঁধে বসে ছিল সারাটা দিন। এভাবে চললে আমরা আদৌ বাঁচব কিনা জানি না। তবে আমার মন বলছে দিন বদলাবে, মানুষ আবার আসবে, আবার পর্যটকের পদভারে মুখর হবে কাপ্তাই হ্রদ।

কয়েক কোটি টাকা খরচ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় বছর দুয়েক আগে ‘স্কয়ারপার্ক’ নামের হোটেলটি চালু করেছিলেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর নেয়াজ আহমেদ। অল্পসময়েই পেয়েছেন জনপ্রিয়তাও। কিন্তু কোভিড তাকে বলা যায়, বিধ্বস্তই করে দিয়েছে। মন খারাপ করা কণ্ঠে জানালেন, খুব খুশি মনেই হোটেল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফের চালু করেছি। ভেবেছিলাম প্রথম দিনে হয়ত ন্যূনতম পঞ্চাশ শতাংশ বুকিং হলেও হবে। কিন্তু প্রথম দিনের বুকিং ১০ শতাংশও ছাড়াল না। আগামী দিনগুলোতে হয়তো পরিস্থিতি উত্তরণ হবে। কিন্তু মৌসুমের আগে মনে হয় না খুব একটা পরিস্থিতি বদলাবে। সেই অবধি প্রতীক্ষাই করতে হবে মনে হয়।’

তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল অবধি শহর সংলগ্ন পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো এবং পর্যটন কমপ্লেক্স সরেজমিন ঘুরে যে চিত্র দেখা গেল তা বেশ হতাশারই। শহুরে মানুষের বৈকালিক ঘোরা ছাড়া খুব একটা পর্যটক চোখেই পড়ল না। লকডাউনের ঘরবন্দি জীবন থেকে আপাত মুক্তি মিললেও সম্ভবত মরণঘাতি মহামারি কভিড-১৯ এর ভয় এখনো পিছু ছাড়ছেনা ভ্রমণপ্রিয় মানুষের। 



সাতদিনের সেরা