kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে যা বললেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ আগস্ট, ২০২১ ০৭:৩২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে যা বললেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

ফাইল ছবি।

বরিশাল নগরের থানা কাউন্সিল (উপজেলা পরিষদ) কম্পাউন্ডে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লক্ষ্য করে আনসার সদস্যদের গুলিবর্ষণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ছাত্রলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের।

বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার পর থানা কাউন্সিলসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মধ্যরাতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, যে কাজ করতে গিয়ে আজকের এ ঘটনা, ওই কাজটি আমাদের রেগুলার কাজ। গতকাল আপনারা ছিলেন আমার সংবাদ সম্মেলনে, তখন আমি ব্যানার নিয়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছি, পুরনো ব্যানার বা ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলতে। এতে শহর পরিষ্কার হবে। আর আপনারা জানেন মনে হয়, আমার নিজের করা ব্যানারটিও আমি খুলে ফেলেছি।

আর সেই ধারাবাহিকতায় পরিষ্কার করতে করতে তারা থানা কাউন্সিলে গিয়েছে। আপনারা দেখেছেন, থানা কাউন্সিলের ভেতরে বিভিন্ন লোকজন বিভিন্ন ব্যানার দেয়। আর যেখানে সিটি করপোরেশনের লোকজন কাজ করছিল, সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসা না। ওখানে পুকুর আছে, যেখানে সাধারণ মানুষ গোসল করে, ওখানে মসজিদ আছে, ওখানে আরো অনেক অফিস আছে, ওখান থেকে পেছনে বসবাসকারী মানুষদের যাতায়াতের রাস্তাও রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের কর্মীরা আমাকে যেটা জানিয়েছেন, ওখানে কাজ প্রায় শেষের পথে ছিল, পরিষ্কার করে চলে আসবে, তখন ইউএনও সাহেব বের হয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের বলেছেন, কার কাছে জিজ্ঞেস করে সেখানে তারা গিয়েছে। কর্মীরা বলেছে, তাদের গালাগাল করা হয়েছে। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওনার বাসায় হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু ওনার বাসার গেটের ভেতরে কি তারা ঢুকেছে? ওখানে আমাদের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক ছিল, তারপর প্রচার সম্পাদকের সঙ্গে সিনিয়রদের পাঠালাম সেখানে কী হয়েছে দেখার জন্য।

তিনি বলেন, যখন তারা আমাকে বলল যে গুলি হচ্ছে, তখন আমার বাসায় আমি, আমাদের সিটি করপোরেশনের সিও, মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। আমি তাৎক্ষণিক একাই ঘটনাস্থলে চলে গেলাম। সিও সাহেবও পেছনে পেছনে রওনা দিলেন। আমি যখন ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলমেট খুলে কর্মীদের বললাম, তোমরা গেটের বাইরেই দাঁড়াও, কেউ ভেতরে যেয়ো না। এরপর একা থানা কাউন্সিলের গেট দিয়ে যখন ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলাম এবং বললাম, আমি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র। তারা সে কথা শুনে অনবরত গুলি করা শুরু করল। এর মধ্যে পেছনে যে নেতা-কর্মীরা ছিল তারা সবাই এসে মানবপ্রাচীর বানিয়ে আমাকে বাইরে নিয়ে এলো। তারপর ওখানে থেকে আমার খুবই খারাপ লাগছে, খুবই লজ্জা লাগছে। তাই আমি ওখান থেকে চলে এসেছি। চলে আসার পর শুনলাম, আবারও গুলি হয়েছে। আমাদের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটুকে রেখে এসেছিলাম, যাতে ওখানে অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে।

সিটি মেয়র বলেন, আমি গুলিবিদ্ধ হইনি, তবে আমাকে গুলি করা হয়েছে, আর সেগুলো আমার জ্যাকেটের কারণে শরীরের ভেতরে লাগেনি; কিন্তু শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছি। আর গুলির সময় নেতাকর্মীরা সামনে চলে আসায় তাদের গায়েই গুলিগুলো লেগেছে। কতজনের গায়ে লেগেছে তা আমি হিসাব না করে বলতে পারব না। কতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে সে বিষয়েও এখন কিছু বলতে পারব না।

ব্যানারকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটতে পারে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কী বলব বলেন, গুলি করা হয়েছে ওখানে। প্যানেল মেয়রের গায়ে পর্যন্ত গুলি করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, আমি ওখানে যাওয়ার পর পুলিশ কমিশনার সাহেব, র‌্যাবের সিও, আনসাররা গুলি করায় আনসারদের প্রধানকেও ফোন করেছি। কিন্তু আমি চলে আসার পর পুলিশ বের হয়ে আসে, এরপর আবারও নাকি গুলি হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদককে যেহেতু আটকে রাখা হয়েছে, তাই হয়তো প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু আলোচনার জন্য ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাকে গুলি করা হয়েছে, ৩৫-৩৭টি শটগানের গুলির পিলেট তার গায়েও লেগেছে। আমাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস ব্যানার উচ্ছেদের সময় থেকেই ওখানে ছিল। তার গায়েও গুলি লেগেছে।

তিনি বলেন, ঘটনার অবশ্যই তদন্ত চাইব এবং অবশ্যই আমরা আইনের আশ্রয় নেব। মেয়র হিসেবে এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। আমি মেয়র হিসেবে তাহলে ব্যর্থ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে শপথ পড়িয়েছেন, আমার বাবা আছেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, আমি আমার রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দেব।

মেয়র বলেন, আপনার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়ে থাকলে আমাকে বলতে পারতেন। বরিশালে এত বছরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে এইভাবে আমাদের গুলি করা লাগবে।  আবার শুনলাম যারা আহত হয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য মেডিক্যালে গেছে। ঠিক আছে, অপরাধ হয়ে থাকলে, তাদের অপরাধ হয়নি, আমি মেয়র, মাথা পেতে নিলাম। আমি রেজিগনেশন লেটার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়ে দেব।

এ ধরনের ঘটনার পেছনে কোনো কারণ আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালন করছি, আমাদের প্রশাসনের কাছে যেতে হয় না। আমরা নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের নিজেদের ইনকাম-বাজেট থেকে চলার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের যে কয়টি সিটি করপোরেশন আছে তার মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন দুর্নীতিমুক্ত- এটাও চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। সরকারি অনুদান না পেয়েও আমাদের বেতন-ভাতা সব চলমান, পাঁচ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে রাস্তা করতেছি আর এগুলোই যদি কারো চোখের শূল হয়, তাহলে আমি কী করব।

সব শেষে তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নেতাকর্মীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আমার মন খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমি বাসায় চলে আসি। তার পরও অনেকে বলে, আমার মাথা গরম, মাথা গরম হলে তো ওই জায়গায় অনেক কিছু হতে পারত।



সাতদিনের সেরা