kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

নমুনা জটে রংপুর বিভাগের মানুষ

ফলাফলের অপেক্ষায় থেকে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের

জিনএক্সপাট মেশিনের পরীক্ষাও বন্ধ, আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৮ আগস্ট, ২০২১ ০৯:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফলাফলের অপেক্ষায় থেকে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের

ফাইল ছবি।

করোনা পরীক্ষার জন্য রংপুরে বেড়েছে নমুনা দেওয়ার হার। এ কারণে পিসিআর ল্যাবে জট দেখা দিয়েছে, নমুনা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঢাকায়। গত ১৫ দিন ধরে তিন হাজারের বেশি নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল ল্যাবরটরিতে পড়ে আছে। নমুনা পরীক্ষার জটে শনাক্ত বিড়ম্বনায় পড়েছেন রিপোর্ট প্রত্যাশীরা। এছাড়া জিনএক্সপার্ট মেশিনে করোনা শনাক্ত বন্ধ রয়েছে। শুধু আরটি পিসিআর ল্যাব ও র‌্যাপিড এন্টিজেন পদ্ধতিতে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ফলে করোনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে অস্বাভাবিক সময় ক্ষেপন হওয়ায় আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে বিভাগের কয়েকটি জেলায় আরটি পিসিআর ল্যাব ও র‌্যাপিড এন্টিজেন পদ্ধতির পাশাপাশি জিনএক্সপার্ট মেশিনে করোনা রোগী শনাক্ত করা হত। নমুনা জটের কারণে জিনএক্সপাট মেশিনের পরীক্ষাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিটি জেলায় জিনএক্সপার্ট মেশিন থাকলে করোনা শনাক্তের সক্ষমতা আরো বাড়ত। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যেত দ্রুত সময়ের মধ্যে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে আপাতত অন্য জেলাগুলোতে জিনএক্সপার্ট মেশিন বসানোর সুযোগ নেই।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভাগের আট জেলায় আরটি পিসিআর ল্যাব ও র‌্যাপিড এন্টিজেন পদ্ধতিতে করোনা শনাক্ত করা হচ্ছে। সক্ষমতার বেশি নমুনার পরিমান বেড়ে যাওয়ায় শনাক্তের জন্য তিন হাজারের বেশি নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল ল্যাবরটরিতে পাঠানো হয়েছে। গত ৩০ জুলাই দিনাজপুর এবং ৮ আগস্ট রংপুর থেকে এসব নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেসব নমুনার ফলাফল এসে পৌছায়নি। এ কারণে করোনা রোগী শনাক্তে সময় ক্ষেপন হওয়ার পাশাপশি করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দ্রুততম সময়ে দেওয়ার জন্য ঢাকায় অনুরোধ করা হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোশেনের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘নমুনার জট তৈরি হওয়ায় তারা নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রেখেছেন। খুব জরুরি না হলে নমুনা নেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের ৮ শতাধিক নমুনা পরীক্ষার জন্য পড়ে আছে, রিপোর্ট আসছে না।’ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান রংপুরে একমাত্র পিসিআর ল্যাবে নমুনা জটের কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে দেরি হলে সংক্রমণ বাড়ারও শঙ্কা থাকে।

ভূক্তভোগীরা জানান, নমুনা পরীক্ষায় কোভিড পজেটিভ না হলে করোনা হাসপাতালে রোগী ভর্তি করানো হয় না। ফলে নমুনা দেওয়া তিন হাজার মানুষের মধ্যে দেড় শতাধিক মানুষ করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই মারা যাচ্ছেন কেউ কেউ। এ কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একেএম নুরুন্নবী লাইজু জানান, তার পিসিআর ল্যাবে সর্বোচ্চ দৈনিক ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। একটিমাত্র পিসিআর ল্যাবেই ভরসা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবন্ধা জেলার। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিটি জেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তা হল প্রতিটি জেলার জন্য ৩০টি, রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ৩৫টি, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ২৫টি এবং বাঁকি কয়েকটি পুলিশ, বিজিবি ও ভিভিআইপিদের জন্য। ফলে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে নমুনা পরীক্ষারও কোন সুযোগ নেই। চার জেলার উপসর্গ দেখা দেওয়া মানুষদের করোনার নমুনা পাঠানো হচ্ছে এখানে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে কমপক্ষে আরো দু’টি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা গেলে নমুনা পরীক্ষার চাপ যেমন কমবে, তেমনি নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোতাহারুল ইসলাম জানান, রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলার মধ্যে শুধু রংপুর ও দিনাজপুরে পিসিআর ল্যাব আছে। তার সক্ষমতাও কম। ফলে নমুনা জটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার জন্য ঢাকায় অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা