kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

মিরসরাইয়ে তিন হাজার পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা

শেখ জামালের সভাপতির উপহারে সবাই খুশি

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)   

১৮ আগস্ট, ২০২১ ০৩:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেখ জামালের সভাপতির উপহারে সবাই খুশি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মঘাদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় গতকাল খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিবন্ধী নুরুল মোস্তফার বয়স ৫৫ বছর। স্ত্রী-সন্তান মিলে ছয়জনের সংসার। করোনার এই দুঃসময়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি সাফওয়ান সোবহানের পাঠানো উপহারের খাদ্যসামগ্রী পেয়ে ভীষণ খুশি তিনি। বললেন, ‘যিনি এই খাবারগুলো দিয়েছেন, তাঁর জন্য আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করছি।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের আয়োজনে ও ক্লাবটির সভাপতি সাফওয়ান সোবহানের অর্থায়নে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তিন হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে উপহারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্থানীয় শাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপহারের এই খাদ্যসামগ্রী পেয়ে নুরুল মোস্তফার মতো হাজারো মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রতি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, তিন কেজি আটা ও দুই কেজি ডাল।

গতকাল সকাল ১১টায় প্রথমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয় উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে। সেখানে এক হাজার হতদরিদ্র মানুষের হাতে উপহারের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুর রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার, বিসিএলের অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ এইচআরএ মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ও ডেপুটি ম্যানেজার নিয়ারুল ইসলাম।

মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপহারের খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি স্থানীয় জলদাসপাড়ার রিতা রানী। তিনি বলেন, ‘করোনায় আমরা ঠিকভাবে দুই বেলা খাইতে পাই না। এই খাবারগুলা পাইয়া খুব ভালা লাগছে।’

মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার বলেন, ‘আমার এলাকার অসহায় পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি সাফওয়ান সোবহান অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অসহায় এই মানুষগুলো খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুব খুশি হয়েছে।’

পরে গতকাল দুপুর ১২টায় উপজেলার শাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপহারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেখানেও এক হাজার হতদরিদ্র মানুষের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়। এখানেও উপহারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণে উপস্থিত ছিলেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুর রহমান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী ও বিসিএলের এইচআরএ মো. আলম।

চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এমন এক সময় সাফওয়ান সোবহান সাহেব আমার এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পাঠালেন, যখন গরিব মানুষগুলো আভাব-অনটনে দুর্বিষহ সময় পার করছে। এই খাদ্যসামগ্রী পেয়ে আমার এলাকার গরিব মানুষ খুব খুশি হয়েছে।’

এদিকে গতকাল বিকেল ৩টায় শুরু হয় উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপহারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই খাদ্যসামগ্রী পেয়ে ভীষণ খুশি এখানকার দরিদ্র মানুষ। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব এবং বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএমএসআইএলের এজিএম নাসির উদ্দিন, খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সমন্বয়ক বিসিএলের এইচআরএ ম্যানেজার মো. এনামুল হক।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পিএসএস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুর রহমান বলেন, ‘চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠা পর্যন্ত দেশব্যাপী আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি সাফওয়ান সোবহান স্যারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে এসব খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘অসহায়, দুস্থ মানুষের মাঝে নিয়মিত খাবার বিতরণের পাশাপাশি আমরা পরিকল্পনা করছি আরো বড় পরিসরে কিছু করার। দেশ ও মানুষের কল্যাণে যা যা করণীয়, আমরা তার সবই করব।’



সাতদিনের সেরা