kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

জোয়ারে ভেসে আসছে ডুবে যাওয়া রোহিঙ্গাদের লাশ

২৪ ঘণ্টায় ৭ জনসহ মোট ১১ লাশ উদ্ধার

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ আগস্ট, ২০২১ ০১:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জোয়ারে ভেসে আসছে ডুবে যাওয়া রোহিঙ্গাদের লাশ

প্রতীকী ছবি

জোয়ারে ভেসে আসছে ডুবে যাওয়া রোহিঙ্গাদের লাশ। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে একের পর এক লাশ ভেসে আসছে। ভাসানচর থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ২৭ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ১১ জনের লাশ ইতিমধ্যে সন্দ্বীপ চ্যানেল উপকূলের কাছাকাছি ও দক্ষিণে সাগর মোহনা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে ৭ জন রোহিঙ্গা নাগরিকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন শিশু রয়েছে। কোস্টগার্ড ও পুলিশ যৌথভাবে এ লাশগুলো উদ্ধার করে। জোয়ারের সময় লাশগুলো সাগর থেকে ভেসে আসলে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। 

এর আগে সোমবার সন্দ্বীপের মগধরা উপকূলের কাছে চ্যানেল থেকে পুলিশ ও কোস্টগার্ড ২টি, নৌবাহিনীর জাহাজ অপরাজেয় বাংলা সন্দ্বীপের দক্ষিণে সাগর মোহনা থেকে আরো একটি লাশ উদ্ধার করে। রবিবার কোস্টগার্ডের ডুবুরিরা ভাসানচর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রথম লাশটির সন্ধান পান।

জানা গেছে, সোমবার রাত দেড়টায় সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের ছোয়াখালি খাট এলাকা থেকে পুলিশ একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্তোষপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে আরো একটি লাশ উদ্ধার করে। কোস্টগার্ড মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছোয়াখালি খাট এলাকা থেকে ৪টি লাশ উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় বাউরিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বেড়িবাঁধ থেকে আরো একটি মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।

সন্দ্বীপ থানার ওসি বশির আহাম্মদ খাঁন লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে উদ্ধার করা লাশগুলোর মধ্যে ৬টি শিশু। এদের মধ্যে আনুমানিক ৬ মাস, ১ বছর, ৫ বছর ও ৬ বছরের ৪টি মেয়ে শিশু ও ৭ বছরের ২টি ছেলে শিশুসহ মোট ৬ জন শিশু এবং একজন ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ।

সোমবার (১৬ আগস্ট) গুপ্তছড়া ঘাট থেকে একটি এবং ছোয়াখালি খাট এলাকা থেকে একটিসহ মোট দুটি মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়। দুই দিনে এ পর্যন্ত সন্দ্বীপ উপকূল থেকে মোট নয়টি রোহিঙ্গা নাগরিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ পুলিন বলেন, নদীর কূলে লাশ দেখে স্থানীয়রা আমাদের খবর দেয়। পরে আমরা পুলিশ এবং কোস্টগার্ডসহ লাশ উদ্ধার করি।

কোস্টগার্ড সারিকাইত কন্টিনজেন্ট কমান্ডার সাজু আহামদ জানান, গত দুই দিন সন্দ্বীপ থেকে মোট নয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো ভাষাণচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের স্বজনরা চিহ্নিত করে দাফনের ব্যবস্থা করবে।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে ভাষাণচর থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে ২৭ জন রোহিঙ্গা নাগরিক নিখোঁজ হয়। তন্মধ্যে ১৪ জন রোহিঙ্গা জেলের নৌকা করে ভাষাণচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে আসে। নিখোঁজ রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও নারী।



সাতদিনের সেরা