kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ

গাইবান্ধায় পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিহিংসার শিকার তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০২১ ২০:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাইবান্ধায় পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিহিংসার শিকার তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা!

গাইবান্ধা পৌরসভার তালিকাভুক্ত দীর্ঘদিনের ঠিকাদারদের প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন ও বিভিন্ন কাজের বিল দেওয়া হচ্ছে না। পৌরসভায় আগামী ২৫ আগস্ট এলজিএসপির দরপত্র রয়েছে। ওই দরপত্রসহ বিভিন্ন দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে কিছু ঠিকাদারকে দূরে রাখতেই পৌর কর্তৃপক্ষের এই দুরভিসন্ধি বলে সোমবার দুপুরে গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন। তারা এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তাদের দাবি, গত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করায় কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে বিরূপ আচরণ করছেন। তবে এ সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।

গাইবান্ধা পৌরসভার ঠিকাদারদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে মেসার্স জোহা অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন বলেন, পৌরসভার তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট, ট্যাক্স ও পৌরসভায় সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে সুনামের সাথে ঠিকাদারি করে আসছেন। প্রতি অর্থবছরে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। কিন্তু পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মতলুবর রহমান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করায় ঠিকাদারদের সাথে পক্ষপাতমূলক স্বেচ্ছাচারী আচরণ শুরু করেন। প্রতিহিংসাবশত তাদের লাইসেন্সও নবায়ন করা হচ্ছে না। এমনকি তাদের বিভিন্ন কাজের বিল প্রদানও করা হচ্ছে না। কিন্তু তার পছন্দের ঠিকাদারদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোনো ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যদি অপকর্ম, দুর্নীতির অভিযোগ থাকে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ঠিকাদারের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন না করার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু তাদের কোনো ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তালবাহানা করে লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করছেন। পৌর মেয়র কোনো বিশেষ মহলকে খুশি করতে তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা মার্কার প্রার্থীর সমর্থক ঠিকাদারদের সাথে এমন বৈষম্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। লাইসেন্স নবায়ন করা হলে পৌর রাজস্বসহ সরকারের কোষাগারে অনেক অর্থ জমা হবে। এতে পৌরসভা তথা দেশের সার্বিক উন্নয়ন হওয়ার কথা। অবিলম্বে লাইসেন্স নবায়নসহ উত্থাপিত সমস্যাসমূহ সমাধান না হলে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য ঠিকাদারের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম, মো. ঈশা মিয়া, প্রদীপ কুমার সরকার বটু, হাসান মাহমুদ রাসেল, ওয়াহিদ মুরাদ লিমন, জিয়াউর রহমান সুমন, রাসেল আকন্দ, এরশাদ মল্লিক অনু, মাহবুব হোসেন লিটন, রবিউল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র মো. মতলুবর রহমান বলেন, তিনি  আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কাজেই নৌকার পক্ষে কাজ করায় লাইসেন্স নবায়ন না করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এই পৌরসভায় মোট ৭৬ জন ঠিকাদার রয়েছেন। তাদের মধ্যে অল্পকিছু ঠিকাদার বিগত পাঁচবছরে সিন্ডিকেট করে কাজ করেন। অন্য ঠিকাদাররা কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনও নজির আছে, কাজ না করেই কতিপয় ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব কারণে ঠিকাদারদের এই সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা চলছে। যাতে সবাই কাজ পান। এজন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মেয়র আরো বলেন, অভিযোগকারী ঠিকাদাররা বিভিন্ন সময় সিন্ডিকেট করে কাজে অনিয়ম ও গাফিলতি করেছেন। ফলে পৌরবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মেয়র আরো বলেন, পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গড়তে নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন।



সাতদিনের সেরা