kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে

পটিয়ায় খতমে কোরআন, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও খাবার বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২১ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পটিয়ায় খতমে কোরআন, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও খাবার বিতরণ

চট্টগ্রামের পটিয়ার ৭৫ পরবর্তী ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ এর নিহত শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় খতমে কোরআন দোয়া মিলাদ মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হযরত শাহচান্দ আউলিয়া আলিয়া মাদ্রাসার এতিমখানা ও হেফখানার এতিম শিশুদের নিয়ে হযরত শাহচান্দ আউলিয়ার মাজার প্রাঙ্গনে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অবিভক্ত বৃহত্তর পটিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  চৌধুরী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর পটিয়া উপজেলা  আওয়ামীলীগ এর সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন আহমেদ, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম।

প্রধান অতিথি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধা  শামসুদ্দীন আহমেদ ৭১-এর উত্তাল সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন আমরা তখন ছাত্রলীগের  কর্মী বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম মুক্তির সংগ্রামে। স্বাধীনতা পরবর্তী আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সরাসরি নির্দেশনায় দেশ গঠনের কাজে আংশ নেওয়ায়, সুযোগ হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে পাওয়ার। বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদার মনের একজন মহান নেতা।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন কর্মের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন বাঙ্গালীর রাখাল রাজা আন্দোলন সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমগ্র জীবন ছিল রাজপথের সংগ্রাম আর জেল জুলুমের অগ্নিশিখাদ্বীপ্ত। বঙ্গবন্ধু ছাত্র বয়সে মানুষের জন্য দেশের জন্য বাঙ্গালী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। বার বার পাকিস্তানি জান্তা সরকারের হুলিয়া, আটক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর বজ্রকঠিন নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আমরা পেয়েছিলাম একটি স্বাধীন সর্বভৌম রাষ্ট্র।  
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র ৪ বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শত্রুদের ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সকলকে হত্যা করা হয়। সেদিন বাদ যায়নি ১০ বছরের ছোট্ট শিশু রাসেল। ঘাতকের বুলেট সেদিন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মনি, বেগম আরজু মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, সুকান্ত সেরনিয়াবাতসহ অনেক তাজা প্রাণ। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন হত্যাকাণ্ড আর নেই। এই আগষ্ট মাস ইতিহাসের নির্মম একটি ঘটনা বহন করে যাচ্ছে।  খুনিদের বিচার হয়েছে। পালাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি দাবী জানাচ্ছি আগামী জাতীয় শোক দিবসের আগে পলাতক  খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে হবে। আমি সকলের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি আপনারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করবেন, আপনারা আমার নেত্রী শেখ হাসিনার জন্য আমাদের ছোট আপা শেখ রেহেনার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাদের সুস্থ রাখেন, তাদের দীর্ঘ হায়াত দান করেন। তাদের হাত ধরে যেন বঙ্গবন্ধুর সকল অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হয়। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারেন।

অনুষ্ঠানে খতমে কোরআন শেষে ১৫ই আগষ্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, এবং এতিমখানার ছাত্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

পটিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হুমায়ূন কবির রাশেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৭৫ পরবর্তী পটিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পটিয়া উপজেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ডি,এম,জমির উদ্দিন। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গফুর, ৭৫ পরবর্তী পটিয়া থানা ছাত্রলীগ নেতা জাগির হোসেন, মোহাম্মদ সোলেমান, মোঃ হাবিব, মোঃ লোকমান, মোঃ আবু তৈয়ব চৌধুরী, মোহাম্মদ দুলাল, সাবেক ছাত্রনেতা ও শিশু সংগঠক মোঃ সাহাব উদ্দিন, ভাটিখাইন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন,উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন, পটিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক আবু ছৈয়দ, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম, আরমান মাহমুদ, এস এম জাফর, যুবলীগ নেতা রিটন বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া, হাসান শরীফ তৌহিদুল আলম জুয়েল, সাইফুল ইসলাম সাইফু, সাইফুদ্দীন ভোলা, মোঃ খোরশেদ, উজ্জ্বল ঘোষ, সাইফুল ইসলাম জুয়েল, বাদশা মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসাইন, জয়নাল আবেদিন রাফি, রাহুল দে প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা