kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খালে ধসে পড়ছে শয়নঘর, ঝুঁকিতে দিনমজুর পরিবার

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২১ ১৪:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালে ধসে পড়ছে শয়নঘর, ঝুঁকিতে দিনমজুর পরিবার

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বারআঞ্জুল মাছিরবাজার এলাকায় ডাংগুরি খালের ভাঙনের কবলে পড়ে রুবেল আহমেদ (৩৫) নামে একজন দিনমজুরের শয়নঘর ধসে পড়তে শুরু করেছে। 

এরই মধ্যে টিউবওয়েল ও টয়লেট খালে ধসে পড়ে গেছে। শয়ন ঘরের এক অংশের নিচ থেকে মাটি ধসে পড়ায় সাপ, পোকামাকড় ও যে কোনো সময় ঘর ধসে পড়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে দরিদ্র পরিবারটির। এমতাবস্থায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে দিনমজুর পরিবারের সদস্যরা।

রুবেল আহমেদ উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বারআঞ্জুল মাছিরবাজার এলাকার মৃত বুলু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি গ্যাস কম্পানিতে দিনমজুরের কাজ করেন।

দিনমজুর রুবেল আহমেদ জানান, ছোট বেলায় তিনি বাবাকে হারিয়েছেন। বাবাও দিনমজুর ছিলেন। মা এখনো বেঁচে আছেন। বাবার একমাত্র সম্বল ৩ শতক জমির ওপর বসতবাড়িতে মা ও তিনভাই একসাথে থাকতেন। ২০০৭ সালে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর বাবার রেখে যাওয়া ওই বাড়িতে সবাই মিলে বসবাসের অসুবিধা দেখা দেওয়ায় ১০ বছর আগে বারআঞ্জুল মৌজায় তার শ্বাশুড়ির দেয়া ৫ শতক জমিতে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে স্ত্রী ও রিমন আহমেদ (১২) ও রাহাত বাবু (১০) নামে দুই শিশু সন্তান নিয়ে কোন রকমে বসবাস করে আসছেন। 

কয়েক মাস আগে ওই বসতঘরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাংগুরি খাল পুনঃখনন করা হয়। কিন্তু খননের সময় তার প্রায় এক শতক জমিসহ শয়নঘরের পাশ ঘেঁষে মাটি কেটে নেওয়া হয়। 

চলমান বর্ষায় প্রায় এক মাস আগে খালের ভাঙনের কবলে পড়ে শয়নঘর ধসে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে টিউবওয়েল ও টয়লেট খালে ধ্বসে পড়ে গেছে। শয়নঘরের এক অংশের নীচ থেকে মাটি ধ্বসে গেছে। যে কোনো সময় পুরো ঘর ধসে পড়তে পারে। 

পাশে কোনো বসতবাড়ি না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে বালতিতে করে পানি নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে। লজ্জা শরম উপেক্ষা করে মাঠে প্রকৃতির ডাক সারতে হচ্ছে। শাশুড়ির দেওয়া এই একখন্ড জমি ছাড়া কোথাও যাওয়ার আর জায়গা নেই। 

তাছাড়া নতুন করে টিউবওয়েল, টয়লেট ও ঘর পুনর্নিমাণ করা তার পক্ষে একেবারেই সম্ভব নয়। তাই জীবনের ঝুঁকি থাকলেও স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই ভাঙা ঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে। এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে একাধিকবার বলার পরও কেউ এগিয়ে আসেননি।

রুবেল আহমেদ আরো জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর চেয়েছিলেন। কিন্তু নিজের নামে জমি না থাকায় ঘর পাওয়া যাবে না বলে জানান চেয়ারম্যান। তখন সরকারি ঘরের আশায় তার শাশুড়ি মেয়ের নামে ওই ৫ শতক জমি লিখে দেন। 

আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, আশ্রায়ন প্রকল্প (খ শ্রেণী) জমি আছে ঘর নাই এই প্রকল্পের ঘর বর্তমানে তার ইউনিয়নে এখনো আসেনি। দিনমজুর রুবেল আহমেদ এই ঘর পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় কিছু করার নাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাকে সহায়তা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আহমেদ জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে সরেজমিন পরিদর্শন করে দরিদ্র পরিবারটির দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা