kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে অন্যদের ফাঁসাতে গিয়ে ধরা খেলেন আ.লীগ নেতা

নাটোর প্রতিনিধি    

১৩ আগস্ট, ২০২১ ১৪:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে অন্যদের ফাঁসাতে গিয়ে ধরা খেলেন আ.লীগ নেতা

নাটোরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের নাটক সাজিয়ে অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে আটক হয়েছেন নাটোর সদর উপজেলার ২ নম্বর তেবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাব উদ্দীন মিলন, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ নাটোর জেলা শাখার সহ-সভাপতি বাশারতুল্লাহ বাশার (৩৫) এবং যুবলীগকর্মী হিমেল (১৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ) দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ মাস্তান মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

২ নম্বর তেবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাব উদ্দীন মিলন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের সিংহারদহ দক্ষিণপাড়া এলাকার রিপন, আল আমিন, ভূট্টোর নেতৃত্বে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী লোহার রড, পাইপ, হাসুয়া নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্য দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় মিলনকে না পেয়ে অফিসে বসে থাকা যুবলীগকর্মী হিমেলকে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন। এ সময় অফিসে থাকা জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর এবং নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের ছবিসহ সকল আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। এছাড়া মিলনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ড্রয়ার ভেঙে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এদিকে দলীয় অফিসে হামলা এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

গতরাতে ৬ নম্বর ওর্য়াড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী এবং নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের ছবি মেঝেতে পড়ে রয়েছে। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তেবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ নাটোর জেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম জনি, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলীসহ উপস্থিত নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পরে অভিযুক্ত রিপন এবং আল আমিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের ছেলেরা ইটভাটায় কাজ করে। এসব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাননি। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগ নেতা মিলন এবং তার সহযোগীরা এ নাটক সাজিয়েছেন। নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহাকে বিষয়টি জানালে তিনি রাতেই পুলিশ প্রশাসনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তেবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী প্রধান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলে জেনেছেন আল আমিন ও অন্যরা ইটভাটার শ্রমিক। এরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়নি। এটা সম্পূর্ণরূপে মিলনদের নাটক। 

নাটোর থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনায় ইটভাটা শ্রমিক ও মিলনদের সাথে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক সালিশ বৈঠকে হিমেলকে দু'একটি থাপ্পড় দেয়া হয়। এ ঘটনায়  প্রতিপক্ষদের শায়েস্তা করার জন্য মিলন, বাশার ও হিমেল অফিসের টেবিল ছবি ভাঙচুর ও উল্টে ফেলে এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছে। শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে নাটোর থানা পুলিশ ওই ৩ জন আটক করেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 



সাতদিনের সেরা