kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

টাকা নিয়ে ইয়াবা পাচারকারী ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

মামলা, তিন কনস্টেবলসহ ছয়জন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১১ আগস্ট, ২০২১ ০৩:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টাকা নিয়ে ইয়াবা পাচারকারী ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

প্রতীকী ছবি

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর অর্থ আদায় করে মাদক পাচারকারীদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ঢেমশা তদন্ত কেন্দ্রের তিন পুলিশ কনস্টেবলসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে তিন কনস্টেবল হলেন শাহ মো. হাসান, আরাফাত নাজিম উদ্দিন ও বিমল চাকমা। অন্য তিনজন হলেন মাদক পাচারকারী বেলাল উদ্দিন, আরাফাত হোসেন ও নেজাম উদ্দিন। শেষোক্ত তিনজনের বাড়ি সাতকানিয়ায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত তিন কনস্টেবল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করার পর তাঁদের কাছ থেকে ৪৬৫ পিস ইয়াবা, নগদ ৯০ হাজার টাকা, দুটি চেক, এক জোড়া হাতকড়া ও দুটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

গত শুক্রবার রাতে ইয়াবা উদ্ধার ও অর্থ আদায় করে মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে রবিবার রাতে ঢেমশা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক কাজী জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে তিন কনস্টেবলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় তিন কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিহান সানজিদার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতের আদেশে আসামিদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গোপনে সম্পন্ন করেছে পুলিশ। এ কারণে সোমবার তা প্রকাশ পায়নি। গতকাল মঙ্গলবার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইয়াবাপাচারে পুলিশ জড়িত থাকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য, গত শুক্রবার রাতে তিন কনস্টেবল শাহ মো. হাসান, আরাফাত নাজিম উদ্দিন ও বিমল চাকমা নাপিতের চর এলাকায় ইয়াবা উদ্ধারের জন্য যান। সঙ্গে নিয়ে যান নলুয়া ইউনিয়নের মরফলা গ্রামের বাসিন্দা সোলাইমান নামের এক সোর্সকে। সেখানে গিয়ে বেলাল উদ্দিনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪৬৫ পিস ইয়াবা এবং এক লাখ টাকাসহ বেলালকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত বেলাল চন্দনাইশ উপজেলার ঈদপুকুরিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।

বেলালকে আটকের পর পুলিশের এক কনস্টেবল বেলালের ফোন থেকে ইয়াবা ক্রেতা সেজে ফোন করেন ঢেমশা ইউনিয়নের চান্দের বাড়ি এলাকার আরাফাতকে। তাঁকে ইয়াবা নিয়ে বেলালের বাসায় আসতে বলা হয়। কিছু সময় পরই আরাফাত ২০০ পিস ইয়াবা নিয়ে বেলালের বাসায় এলে তাঁকে আটক করা হয়। পরে ওই দুজনকে নিয়ে পুলিশ অটোরিকশাযোগে মৌলভীর দোকান এলাকায় যায়। ওই অটোরিকশাচালক নেজাম উদ্দিন চান্দের বাড়ি এলাকার মোজাহের মিয়ার ছেলে।

মৌলভীর দোকান পৌঁছে দেনদরবার করে পুলিশ নেজাম উদ্দিনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আরাফাতকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ ছেড়ে দেয়। আর ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বেলালকে। পরে ওই টাকা তিন পুলিশ ও সোর্স ভাগ করে নেন। সোর্স সোলাইমানকে দেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা। বাকি এক লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে কনস্টেবল শাহ মো. হাসান ৫০ হাজার, আরাফাত নাজিম উদ্দিন ৩০ হাজার ও বিমল চাকমা ৩০ হাজার টাকা নেন। 

এদিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান ও সাতকানিয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশ সুপারকে জানান। পরে পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকের নির্দেশনা অনুযায়ী গোপনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান পুলিশ কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে রবিবার রাতেই মামলা করেন ঢেমশা তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক কাজী জাহাঙ্গীর আলম। এ মামলায় তিন কনস্টেবলকে গ্রেপ্তারের পরপরই দুই মাদক পাচারকারী ও অটোরিকশাচালককে আটক করা হয়। তবে সোর্স সোলাইমান ধরা পড়েননি।

ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা