kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা

কই, তেলাপিয়াসহ ১৫ প্রজাতির দেশীয় মাছে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০২১ ২০:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কই, তেলাপিয়াসহ ১৫ প্রজাতির দেশীয় মাছে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় ১৫ প্রজাতির দেশীয় মাছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার (মাইক্রোপ্লাস্টিক) সন্ধান পাওয়া গেছে। সাভার ও আশুলিয়া বাজার থেকে সংগ্রহ করা মাছ গবেষণা করে ৭৩.৩% প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত থিসিসের জন্য এ গবেষণাটি পরিচালনা করেন। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক ও সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা পারভিন।

সম্প্রতি ‘অ্যাবান্ড্যান্স, ক্যারেক্টিরিস্টিকস অ্যান্ড ভেরিয়েশন অব মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ডিফারেন্ট ফ্রেশওয়াটার ফিশ স্পিস ফ্রম বাংলাদেশ’ শিরোনামে পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘সায়েন্স অব দ্যা টোটাল ইনভায়রনমেন্টে’ প্রকাশিত গবেষণায় এ তথ্য জানা যায়।

গবেষণা হতে জানা যায়, টেংরা, কই, বাটা, রুই, তেলাপিয়া, কাইলবাউশ, বেলে, কমন কার্প, পাবদা, পুঁটি, রয়না, শিলং, বাইম, টাটকিনি ও বাছা প্রজাতির মাছে মাইক্রো প্লাস্টিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে টেংরা, টাটকিনি, রয়না বা মেনি মাছে প্লাস্টিকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এসব মাছে হাই ডেনসিটি পলিথিলিন, পলিপ্রপিলিন পলিথিলিন কপোলিমার ও ইথিলিন ভিনাইল এসিটেট প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। এসব প্লাস্টিক কণা সরাসরি খাদ্যের সাথে মানুষের দেহে প্রবেশ করে না। তবে এগুলো থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত রাসায়নিক মাছের দেহ বা মাসলে জমা হয়। পরে এসব মাছ খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষের দেহে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির সক্ষমতা রাখে। আর এব প্লাস্টিক পলিমার দৈনন্দিন ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, জুস, শ্যাম্পু, ব্যাগ, কনটেইনার, প্লাস্টিক ও ফোমের জুতা, মোড়ক ইত্যাদি থেকে পরিবেশে প্রবেশ করে।

এ প্রসঙ্গে সুমাইয়া জান্নাত বলেন, ‘স্নাতকোত্তরের থিসিসের কাজে ১৮ প্রজাতির দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধান করি। এসব মাছের মধ্যে ১৫টি প্রজাতির পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাছগুলো সাধারণত কৃত্রিম উপায়ে মিষ্টি পানির জলাধারে চাষ করা হয়। পরীক্ষাকৃত মাছগুলোর ৭৩.৩ শতাংশতে প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। গবেষণাকৃত মাছগুলো সাভার ও আশুলিয়া বাজার থেকে সংগ্রহ করেছিলাম।’

প্লাস্টিকের এমন ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, ‘মাটিতে ও পানিতে প্লাস্টিকের দ্রব্য ফেলা শূন্যে নামাতে হবে। আমাদের প্লাস্টিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য প্লাস্টিকের রিসাইকেল প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা পারভিন বলেন, ‘দেশের ১৮ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৫ প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে। বাকি তিন প্রজাতি ফলি, শিং ও গুলশা মাছে প্লাস্টিকের কণা পাওয়া যায়নি। যেসব মাছ পানির সবচেয়ে নিচের স্তরে বাস করে, তাদের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি। বাংলাদেশের জলাধারগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ফেলা হয়। সেখান থেকেই মাছের মতো জলজ প্রাণী দূষিত খাদ্য গ্রহণ করে। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকার।’



সাতদিনের সেরা