kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

'অহন বন্যায় ধানক্ষেত ডুবলেও নষ্ট অইবো না, ফলন আরো বেশি অইবো'

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০২১ ১৬:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'অহন বন্যায় ধানক্ষেত ডুবলেও নষ্ট অইবো না, ফলন আরো বেশি অইবো'

আমরা মেলা কষ্ট করছি। অহন বিজতলা থাইক্যা জ্বালা তুইল্লা আগে রোপন করি। একমাস পর আবার এই জ্বালা তুইল্লা অন্য ক্ষেতে রোপন করি। অহন বন্যায় পানিতে ধানক্ষেত ডুবলেও নষ্ট অইবো না। ফলনও আরো বেশি অইবো। কথাগুলো বলেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক তারা মিয়া। তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় আড়াই একর জমি আমন ধান চাষ করেন। এর মধ্যে বন্যা কবলিত প্রায় দেড় একর। এই দেড় একর জমিতে আগে প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল আর বন্যার পানিতে ডুবে আমন ধান ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কয়েক বছর যাবত তারা বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকের কাছ থেকে শোনে নিজেরাও ওই পদ্ধতিতে বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের আমন ধানের চাষ করছেন। এতে একাধিবার বন্যার পানিতে ডুবলেও ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং ফলন আরো বেশি হয়। একই কথা শোনান তার প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, ফকির মিয়া, ফজল মিয়া, আলমগীর হোসেনসহ বন্যা কবলিত এলাকার অনেক কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন সবাই আমন ধান চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আজ শনিবার (৭ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য। 

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমি। এসব জমিতে প্রতিবছর আষাঢ়ের প্রথম দিকেই শুরু হয় চাষাবাদ। এবার কেউ আগাম চাষাবাদের জন্যে বীজতলায় আগেই বীজ বপন করেছেন। তবে এখন চলছে পুরোদমে বীজতলা থেকে উত্তোলন করে রোপনের কাজ। বন্যাকবলিত কৃষকরা আগেই বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনের পর ঘন করে অল্প জমিতে রোপন করেছিলেন। এখন আবার সেখান থেকে উত্তোলন করে অন্যত্র রোপন করছেন। এসব রোপা আমনের চারা বন্যা সহনীয়। বরং ফলনও বেশি হয়। এ জন্য দিন দিন এই পদ্ধতিতে আমনের চাষাবাদ বাড়ছে। নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। 

বিলভরট গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম ও কাকিলাকুড়ার আমজাদ আলীসহ অনেকে জানান, বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্যও পেয়েছেন ভালো। এজন্য আগেভাগেই অনেকে বীজতলা তৈরি করে বীজ বপন করে এখন ক্ষেতে রোপন করছেন। তাদের মতে, দিন দিন হাইব্রিড জাতের ধানের চাষাবাদ বাড়ছে। তবে কতিপয় কৃষক পাইজম, নাতিশাল ও তুলশীমালাসহ দেশীয় জাতের কিছু ধানের চাষ করছেন। আমজাদ আলী বলেন, এ মাসে মুসলধারে বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু সেই পরিমাণ বৃষ্টি এখনো হয়নি। এ জন্য অনেকেরই আমনের চাষাবাদে বিলম্ব হচ্ছে। বকচর গ্রামের আমের আলী বলেন, এখন সেচ দেয়ার মতো সুযোগও নেই। এজন্য বৃষ্টির ওপরই ভরসা। তবে নিম্ন এলাকার কৃষকরা এখন আমন চাষাবাদে ব্যস্ত।  

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা ওই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এতে বন্যার কবল থেকে সহজেই রক্ষা পায়। ধানের ফলনও ভালো হয়। এ জন্য দিন দিন বাড়ছে দু’বার করে আমনের চারা রোপন পদ্ধতিতে চাষাবাদ। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছুটা ব্যাহত হলেও এখনও অনেক সময় রয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ সামনে আরো এক মাস আমন চাষাবাদের উপযুক্ত সময়। এতে ফলনেরও কোনো সমস্যা হবে না। বৃষ্টি হলে এ সমস্যা সমাধান হবে। তবে নতুন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বন্যাকে হার মানাবে কৃষকরা। ফলনে বিপ্লব ঘটবে আমন চাষে। এমনটাই মনে করেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। 



সাতদিনের সেরা