kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জুড়ী-বড়লেখায় ভরসা জাকিরের ‘ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২১ ২০:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জুড়ী-বড়লেখায় ভরসা জাকিরের ‘ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস’

মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে ‘ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস’। করোনা আক্রান্তসহ অক্সিজেনের প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তি বা তাঁর স্বজন ফোন করলে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে তাদের বাড়িতে হাজির হচ্ছেন ‘ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস’র স্বেচ্ছাসেবীরা। গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের এ মাস (আগস্ট) আজ পর্যন্ত দুই উপজেলায় এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা দেওয়া হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টার যেকোন সময় যোগায়োগ করলেই পৌঁছে দেওয়া হয় এ সেবা।

এ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন  বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। করোনাক্রান্ত অনেকেই অক্সিজেন না পেয়েই মারা যাচ্ছেন। করোনার কাছে ধনী-গরিব সবাই অসহায়। তাই কেউ যাতে অক্সিজেনের অভাবে মারা না যায়, সেজন্য মানবিক কারণে এই উদ্যোগ নিয়েছি। কারও অক্সিজেন প্রয়োজন হলেই আমাদের স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে কল দিলেই তারা অক্সিজেন বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, শুরুতে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় ১৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে এই সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। চাহিদা বাড়ায় আরও ২০টি সিলিন্ডার যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা ৪৪টি সিলিন্ডার দিয়ে এই সেবা দিচ্ছি। দেশ-বিদেশের অনেকে আমাদের এই কাজে সহায়তা করতে চাইছেন। আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের দায়িত্ব। আমিও সেই দায়িত্ব পালন করছি। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো। তাহলে হয়তো এই অন্ধকার কেটে একদিন আলো আসবেই।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ১৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে এই সেবা শুরু হয়। অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ায় গত ২৮ জুলাই এই কার্যক্রমে আরও ২০টি সিলিন্ডার যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৪টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে রাত-দিন এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই সেবা পেতে হলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের প্রয়োজন হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ কার্যক্রমের সেবা গ্রহিতা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অক্সিজেন না পেয়ে হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিসের স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বাড়ীতে অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। এতে তাদের কোন খরচ দিতে হয়নি। বরং প্রয়াজন শেষে নিজেরাই এসে বাড়ী থেকে সিলিন্ডার ফেরত নিয়েছেন। তারা এ কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানান।

‘ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস’-এর জুড়ীর সমন্বয়ক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সল আহমদ বলেন, যখন কারও অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে তারা আমাদের কল দিচ্ছেন। আমরা অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি। জুড়ীতে ১৮টি সিলিন্ডার আছে।

‘ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস’-এর বড়লেখার সমন্বয়ক ও পৌরসভার কাউন্সিলর রাহেন পারেভজ রিপন বলেন, করোনাক্রান্ত কেউ যাতে অক্সিজেনের কষ্টে মারা না যায় সেজন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক এসএম জাকির হোসাইন ভাই এই উদ্যোগ নেন। মানবিক কারণে আমরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি। কোথাও কারও অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে তারা আমাদের কাছে কল দেন। আমরা অক্সিজেন নিয়ে তাদের বাড়িতে হাজির হই। বড়লেখা উপজেলায় ১৯ টি সিলিন্ডার দিয়ে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিপদে অক্সিজেন পেয়ে মানুষ আমাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।



সাতদিনের সেরা