kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনায় স্বামীর মৃত্যু, 'শোকে' চাকু নিয়ে হাসপাতালে চড়াও স্ত্রী

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২১ ১৭:৩৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনায় স্বামীর মৃত্যু, 'শোকে' চাকু নিয়ে হাসপাতালে চড়াও স্ত্রী

চাঁদপুরে করোনায় স্বামীর মৃত্যুতে শোক সহ্য করতে না পেরে চাকু নিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে উপস্থিত অন্যদের ওপর চড়াও হয়েছেন এক নারী। শুক্রবার দুপুর ১২টায় চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক রোগী মারা যান। এ সময় স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী কুলসুমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে ফল কাটার চাকু হাতে নিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে অবস্থানকারী নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ অন্যান্য রোগীর স্বজনদের ওপর চড়াও হন। মৃত দেলোয়ার হোসেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রুপসা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। 

আইসোলেশন ওয়ার্ডে অবস্থানকারী প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, গত তিন-চার দিন ধরে কুলসুমা বেগম করোনায় আক্রান্ত তার স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে কোনো আত্মীয়-স্বজন তাদের খোঁজখবর নিতে দেখেননি তারা। এতে মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন কুলসুমা বেগম। এরইমধ্যে অক্সিজেন হ্রাস পেয়ে শুক্রবার দুপুর ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, চোখের সামনে স্বামীর এমন মৃত্যুর দৃশ্য দেখে একপর্যায়ে ফল কাটার চাকু নিয়ে দিগবিদিক ছুটাছুটি করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন স্ত্রী।

খবর পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মৃত দেলোয়ার হোসেনের ভাগ্নে নজরুল ইসলাম জানান, তার মামা দীর্ঘদিন যাবত কুয়েতে ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তার শরীরে বিভিন্ন রোগ ধরা পড়ে। এসব রোগ থেকে সুস্থ হতে সেখানে চিকিৎসা করালেও তিনি কোনোভাবেই সুস্থ হয়ে ওঠেননি। তাই কয়েক বছর আগে কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন তিনি। 

চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ও করোনাবিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, এই রোগী ভর্তি হওয়ার আগেই তার অক্সিজেন লেবেল অনেক কম ছিল। যার পরিমাণ ৬৫.১ মাত্রা মাত্র। এতে অক্সিজেনের পরিমাণ  অনেক কমে যাওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রোগীর স্ত্রী কুলসুমা বেগম জ্ঞান হারালেও এখন সুস্থ আছেন।



সাতদিনের সেরা