kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

হুইপ সামশুলের অনুসারীর দাপট

রবিউলে জিম্মি পটিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০৩:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রবিউলে জিম্মি পটিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ

চট্টগ্রামের পটিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর অনুসারী মো. রবিউল হোসেন (সদ্য সাময়িক বরখাস্ত) চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অসহায় এই চক্রের কাছে। কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেটের কবলে এই উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। টিকাকাণ্ডের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই, চলতি দায়িত্ব) রবিউল হোসেনের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটটি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে সামশুলের নির্দেশে চলে এই উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়ার পরও রবিউল সিন্ডিকেটের কাছে চিকিৎসক, কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসীও অসহায়।

সূত্র বলছে, প্রভাব খাটিয়ে রবিউল স্বাস্থ্য সহকারী পদে থাকা স্ত্রী কুলছুম আক্তারকে তাঁর সহকারী হিসেবে অফিস আদেশ করান। স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরতরা মাঠ পর্যায়ে (ওয়ার্ড-ইউনিয়ন) কাজ করেন। কুলছুম পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ১ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকাকালে ১৮ জুলাই তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার স্বাক্ষরিত এক আদেশে রবিউলের সহকারী হিসেবে কুলছুম আক্তারকে কাজ করতে অফিস আদেশ জারি করেন। এ ঘটনাটি এত দিন আড়ালে থাকলেও এখন জানাজানি হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।

জানা যায়, রবিউল পটিয়া কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১২ সালে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক আদেশে রবিউলকে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদে পদায়ন করা হয়। এই পদের জন্য তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স থাকার কথা থাকলেও রবিউলের তা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক-কর্মকর্তা জানান, রবিউলের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। কিন্তু স্থানীয় এমপি ও হুইপের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতি আড়ালে রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের টিকাসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র (ইনজেকশন, সিরিঞ্জ ইত্যাদি) সরবরাহে হয়রানি, বিভিন্ন প্রগ্রামে স্বাস্থ্য সহকারীদের ভাতা নিয়ে ভোগান্তি সৃষ্টি, করোনাভাইরাসের রেজিস্ট্রেশনে অনৈতিকভাবে টাকা আদায়, ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় মানুষকে হয়রানি এবং অনৈতিকভাবে টাকা আদায়, ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে অবৈধভাবে করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহ করে মানুষকে দেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রী কুলছুম আক্তারকে মাঠ পর্যায় থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন এবং বেশির ভাগ সময় স্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় রবিউলের নিজে স্বাক্ষর দেওয়া, বিভিন্ন ঠিকাদার থেকে অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই ঘটল সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে এমপির নির্দেশে প্রায় তিন হাজার টিকা দেওয়ার ঘটনা। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরো কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সামশুল হক চৌধুরীর অনুসারী হওয়ায় এসব অভিযোগ কাগজে-কলমেই থেকে গেছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁর স্ত্রীর পদায়নের আদেশ আমার সময় হয়নি। বিষয়টি জানার পর আমি মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলাম। স্বাস্থ্য সহকারী পদে থেকে অফিসে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে আমি সিভিল সার্জন মহোদয়ের নির্দেশনা চেয়েছি।’

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রবিউল হোসেনকে (সাময়িক বরখাস্ত) অত্র কার্যালয় থেকে কৈফিয়ত তলব করা হয়। তার জবাব সন্তোষজনক নয় বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করা হয়।



সাতদিনের সেরা