kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

কেরানীগঞ্জে শ্যালিকার সাথে প্রেমের সম্পর্কে স্ত্রীকে হত্যা; ১০ মাস পর রহস্য উদঘাটন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০২:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেরানীগঞ্জে শ্যালিকার সাথে প্রেমের সম্পর্কে স্ত্রীকে হত্যা; ১০ মাস পর রহস্য উদঘাটন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে শ্যালিকার সাথে প্রেমের সম্পর্কে স্ত্রীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় দশ মাস পর হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনসহ কঙ্কাল উদ্ধার করেছে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় স্বামীর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তেঘরিয়া ইউনিয়নের কদমপুর এলাকার ভাড়া বাসার পাশের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে স্ত্রীর মোহনার লাশের হাড়, মাথার খুলি, চুলের কিছু অংশ ব্যবহৃত কাপড় সহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের স্বামী ইকবাল হোসেনের তথ্য মোতাবেক দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধীন চরকদমপুর এলাকার একটি ডোবা থেকে গত ১৫ জুন সকালে কয়েক টুকরো হাড় উদ্ধার করেছিলাম এরপর কয়েকদিন তল্লাশি চালিয়েও কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। পরে ইকবালের দেওয়া তথ্য সন্দেহ মনে হলে তাকে পূনরায় আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে লাশ গুমের স্থান দেখিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে পূনরায় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঐ ডোবার অন্য পাশে জাল টেনে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাড়, মাথার খুলি, চুলের কিছু অংশ ব্যবহৃত কাপড় সহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের অংশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পূর্বের উদ্ধার করা হাড় ও আজকের উদ্ধারকৃত কঙ্কাল একই জনের কিনা এবং উদ্ধারকৃত কঙ্কালের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নিহত মোহনার মা রহিমা বেগম বলেন, আমার দুই মেয়ে মোহনা ও আরিফা। বিগত ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে ইকবালে সাথে আমার বড় মেয়ে মোহনার বিয়ে দিই। এরপর ছোট মেয়ে আরিফাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়ে জীবিকার তাগিদে আমি দেশেরে বাহিরে চলে যাই। আমার ছোট মেয়ে আরিফা মাদ্রাসা ছুটিতে বড় বোনের বাড়ীতে আসলে তার বোন জামাই ইকবালের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে যায়। বড় মেয়ের সংসার বাচাতে আমি বিদেশ থেকেই ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেই। সেখান থেকেও একবার ইকবাল ছোট মেয়েকে ফুসলিয়ে বের করে নিয়ে আসে। পরে আমি বাহির থেকে আত্বিয় স্বজনের সহায়তায় বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করি। এরই মধ্যে গত বছর ২২ নভেম্বর আমি জানতে পারি আমার বড় মেয়ে নিখোঁজ। পরে মেয়ের জামাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলে সে উল্টো আমার মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলে সে নাকি অন্য ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে আমি ছুটি নিয়ে ঘটনার ৭ মাস পর গত ৮ জুন দেশে ফিরে আসি। এরপর ১৪ জুন মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। পরে পুলিশ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রামেরকান্দা এলাকা থেকে ইকবালকে আটক করে এবং আমার বাড়ী থেকে আমার ছোট মেয়ে আরিফাকেও আটক করে। আটকের পর ইকবাল পুলিশের কাছে আমার মেয়েকে হত্যার কথা স্বিকার করে। পরে তার দেখানো স্থান থেকেই পুলিশ ১৫ জুন একটি হাড় উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে ঐ একই ডোবার অন্য জায়গায় জাল টেনে আমার মেয়ের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) সাহাবুদ্দিন কবির বলেন, নিহতের স্বামী হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে। তবে সে লাশের ব্যাপারে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছিলো। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডোবা থেকে জাল টেনে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।



সাতদিনের সেরা