kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

প্রভাবশালীদের বালুর ট্রাকে সড়ক বেহাল

প্রসূন মন্ডল, গোপালগঞ্জ   

৫ আগস্ট, ২০২১ ১৭:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রভাবশালীদের বালুর ট্রাকে সড়ক বেহাল

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে শতাধিক বালু ব্যবসায়ীর বালু বোঝাই বড় বড় ডাম ট্রাক চলাচলের কারণে ভাটিয়াপাড়া-কালনা মহাসড়কের তিন কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। সড়কে চলাচলকারী যানবাহন, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বালু ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছেন কাশিয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খানসহ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এ কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাট এলাকা থেকে ভাটিয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক, দক্ষিণাঞ্চলের যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, নড়াইল জেলার গণপরিবহনসহ অসংখ্য যানবাহন মধুমতি নদীর কালনা ফেরি পারাপার হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। এ কারণে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ও ন্যাশনাল হাইওয়ে সড়কের অন্তর্ভুক্ত। এই তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক বালুর চাতাল। বালু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বালু মহল থেকে বালু উত্তোলন করে সড়কের পাশে চাতাল খুলে বসেছেন। এখান থেকে গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতি নদীর উপর নির্মাণাধীন ৬ লেন বিশিষ্ট কালনা সেতুর সংযোগ সড়কে বালু সরবরাহসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকদের কাছে বালু বিক্রি করে থাকেন। আর এসব বালু ট্রাকে ভরার জন্য বড় বড় অসংখ্য স্কেবেটর ব্যবহার করা হয়। এসব স্কেবেটরগুলো এক চাতাল থেকে অন্য চাতালে যাওয়ার কারণে এবং বালু পরিবহনের জন্য শতাধিক ডাম ট্রাক প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করায় এই ক্ষতি হচ্ছে। আর প্রতিবছর সড়ক বিভাগ কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে সড়কটি মেরামত করে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে গেলে কথা হয় স্থানীয়দের সাথে। নাম প্রকাশ না করার সর্তে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বালু ব্যবসায়ীরা এলাকায় ক্ষমতাবান। এর সাথে কাশিয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আমারা কি কিছু করতে পারব। শুকনা মৌসুমে বালু উড়ে ঘরে ঢোকে। যা খাই সব কিছুই বালু লাগে। বৃষ্টির সময় ঠিক মতো হাঁটা চলা করতে পারি না। খুব বিপদে আছি। এর থেকে আপনারা আমাদের রক্ষা করেন।

সড়কে চলাচলকারী কালণার লোহাগাড়া গ্রামের নাঈম শেখ, কাশিয়ানীর ইউনিয়নের বাট্রইধোপা গ্রামের লাইজু খানম, নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামের সোহাগ কাজীসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, কখন গাড়ি উল্টে যায় এই ভয় নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। তিন কিলোমিটার পথ যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। গা ব্যাথা হয়। এর থেকে পরিত্রাণ চাই।

কালণা ফেরিঘাট থেকে ভাটিয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত অটোরিকশা ও ভ্যান চালান মো. দিদার শেখ, নাসির মিয়া, শফিকুল ইসলাম, রইজুল ইসলাম, আহম্মদ মোল্লা, রুহুল শেখ, মো. শুকুর আলী শেখসহ শতাধিক চালক। তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, কি আর বলি প্রায় পাঁচ বছর হতে গেল। এই রাস্তায় ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পা রিনা। যাত্রীরা উঠতে চায় না।

কালনা ফেরিঘাট ইজারাদার মঞ্জুরুল আলম বলেন,  কালনা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় তিনশত যানবাহন চলাচল করে থাকে। রাস্তা ভাঙার কারণে এসব যানবাহন রিকশা নিয়ে এই পথে আসে না। এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রথিন্দ্র নাথ রায় বলেন, এই তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে শতাধিক বালুর চাতাল রয়েছে এবং অনেক ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। যেহেতু উন্নয়নমূলক কাজে এখান থেকে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে তাই কড়াকড়ি করাও যাচ্ছে না। আমাদেরও বিষয়টি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কে যখনই দুর্ঘটনা হয় তখন আমাদেরই আসতে হয়।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান বলেন, সড়কের পাশে বালুর চাতাল রয়েছে। চাতাল থেকে পানি চুয়ে আসায় সড়কের কালো লেয়ারের অস্তিত্ব নাই বললেই চলে। আর বৃষ্টি হলে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। আমরা বিভিন্ন সময়ে ইট ও বালু বিছিয়ে জনসাধারণের যাতায়াতের উপযোগী করে রাখার চেষ্টা করছি।

প্রকৌশলী আরো বলেন, সড়কে মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল, বৃষ্টির পানি  ও বালু থেকে চুয়ে আসা পানির কারণে রাস্তা বেশী টেকসই হয় না। এই সড়কে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে কাজ করা প্রয়োজন। তারপরও সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রুটিন ওয়ার্কের মাধ্যমে সড়কটিতে যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ঈদুল আযাহায় সময় ঘরমুখো মানুষদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গত ২০ দিন ধরে সড়কে বালু ও ইটের সলিং বসানো হয়েছে। এতে প্রায়  ১কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীসাধারনের সুবিধার জন্য চলমান রুটিন কার্যক্রম রাখা হবে।



সাতদিনের সেরা