kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

বোয়ালখালীতে পুলিশের গণমুখী উদ্যোগ, অপরাধ ছাড়লে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা

►১১২ মামলায় ২০৩ জন গ্রেপ্তার

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

৫ আগস্ট, ২০২১ ১৬:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোয়ালখালীতে পুলিশের গণমুখী উদ্যোগ, অপরাধ ছাড়লে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাদক রোধকল্পে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে বোয়ালখালী থানা পুলিশ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাদকের বিস্তাররোধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়ে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিট পুলিশিংয়ের ব্যানারসহ  কমিউনিটি পুলিশিং, ওপেন হাউস ডে'র মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার কার্যক্রম চলছে। মাদকের বিস্তাররোধে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, সভা, সমাবেশ করছেন বোয়ালখালী থানা পুলিশ। এতে মাদকের আগ্রাসন রোধে অতীতের তুলনায় মাদক উদ্ধার অনেকাংশে বেড়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী। অপরাধ বা মাদক ব্যবসা ছেড়ে কেউ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে তাদের পুনর্বাসনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধ ও মাদক নির্মূলে পুলিশের এ গণমুখী উদ্যোগকে জনগণ স্বাগত জানিয়েছে।

বোয়ালখালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় বিগত কয়েক মাসে অভিযান চালিয়ে ২০৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। এদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা, ১০ হাজার লিটার চোলই মদ ও ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। এসব মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ৬টি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। 

বোয়ালখালী থানাধীন করল ডেঙ্গা, জৈষ্ঠপুরা, দাশের দীঘি, আমুচিয়া, কানুগোপাড়া, কালইয়ারহাট এলাকাগুলো পাহাড় ও কর্ণফুলী নদীঘেঁষা হওয়ায় ওইসব এলাকায় পাহাড়ি চোলাই মদ স্থানীয় কিছু অসাধু মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে থাকেন। এছাড়া উপজেলা পৌরসভা এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক স্থানে মাদক বেচাকেনা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, মাদক নির্মূলে বোয়ালখালী থানা পুলিশ দিবা রাত্রি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করলেও মূলত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারে আলাদা একটি নিজস্ব সংস্থা রয়েছে যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর হিসাবে পরিচিত। মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বটা তাদের ওপরই ন্যাস্ত। কিন্তু তাদের অভিযান বোয়ালখালীতে নেই বললেই চলে। তারপরও সর্বনাশা মাদকের ছোবল হতে সমাজকে রক্ষার জন্য অপরাধ দমন, করোনা মোকাবেলা, অসহায়দের খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সর্বদা মাদকবিরোধী অভিযানও অব্যাহত রাখতে হয় থানা পুলিশকে। 
 
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম বলেন, বোয়ালখালীতে মাদকের বিস্তাররোধে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তাই যেখানেই মাদকের খবর মিলছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার সুশীল সমাজ এগিয়ে আসলে মাদক নির্ম–ল অনেকাংশে সহজ হবে। প্রয়োজনে তথ্য প্রদানকারী ও সহায়তাকারীদের নাম ঠিকানা গোপন রাখা হবে। মাদকের সাঁড়াশি অভিযান সফল করতে পুলিশ জনগণকে বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, ওপেন হাউস ডে'র মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা করছে এবং মাদকের বিস্তাররোধে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, সভা, সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সর্কেল) মো. তারিক রহমান বলেন, অপরাধ বা মাদক ব্যবসা ছেড়ে কেউ যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় তাহলে তাদের পুর্নবাসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত কয়েক মাসে বোয়ালখালীতে মাদক নির্মূল সন্তোষজনক অবস্থানে আছে। জনগণের সহায়তা পেলে মাদক কারবারকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা যাবে। যেসব মাদক ব্যবসায়ী আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে আসছে তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা