kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

অসুস্থ চাচাকে মাথায় নিয়ে দেড় কিমি

আজিজুর রহমান রনি, মুরাদনগর (কুমিল্লা)   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০৩:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসুস্থ চাচাকে মাথায় নিয়ে দেড় কিমি

আব্দুল জলিলের বয়স ৭৫ বছর। তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। হাড়ের ওপর চামড়ার আবরণ ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। এই শরীরে পায়ে ভর করে যে কোথাও যাবেন, সেই সক্ষমতা তাঁর নেই। নতুন করে দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্ট। নেবুলাইজ করলে কিছুটা আরাম পান। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। রাস্তার বেহালের কারণে বাধ্য হয়ে ভাতিজা জয়নাল আবেদীন তাঁকে টুকরিতে বসিয়ে মাথায় করে নিয়ে যান দেড় কিলোমিটার দূরের ওষুধের দোকানে।

ভোগান্তির এই সড়ক কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়। জলিলের বাড়ি মুগসাইর গ্রামে। ওই এলাকার কাজি অফিস থেকে  দারোরা বাজার পর্যন্ত এই সড়কের দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার। ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা পশ্চিমপাড়া থেকে লক্ষ্মীপুর চড়কখোলা হয়ে চলে গেছে দারোরা বাজার। ১২ ফুট প্রস্থের সড়কটি চার গ্রামের প্রায় ৯ হাজার মানুষের আসা-যাওয়ার পথ। বর্তমানে রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত হওয়ায় হেঁটে যেতেও দুর্ভোগে পড়তে হয় স্থানীয় লোকজনকে। বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়ে পরিবারের লোকজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগে যে সড়ক দিয়ে হরহামেশাই রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলত, সেখানে এখন বড় বড় গর্ত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ।

মুগসাইর গ্রামের আব্দুস ছালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গর্ভবতী কোনো নারী এবং বয়স্ক কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। কারণ খাটিয়ায় করে এই দুর্ভোগের রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। যাদের পরিবারে সদস্য কম, তাদের আরো বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কারণ তখন লোক ভাড়া করা ছাড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।

পরমতলা গ্রামের মুজিবুর রহমান বলেন, এই রাস্তা দিয়ে পরমতলা, লক্ষ্মীপুর, মুগসাইর ও দারোরা গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে। রাস্তাটি পাকা করলে শিক্ষার্থীসহ সর্বসাধারণের বহুদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে একাধিকবার মেরামত করলেও সামান্য বৃষ্টিতেই আবার আগের মতো হয়ে যায়।’

লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, পরমতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ও খোরশেদ আলম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে যেতেও লোকজনকে মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হয়।

মুগসাইর গ্রামের নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘এ রাস্তা পাকা করার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগে নিজ উদ্যোগে আবেদনও করেছি।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘এ রাস্তা বৃহত্তর কুমিল্লা উন্নয়ন প্রকল্পে তালিকাভুক্ত (আইডি নম্বর- ৪১৯৮১৫০৭৯)। সরেজমিনে গিয়ে দুর্ভোগের চিত্র দেখেছি। রাস্তাটি শিগগিরই পাকা করা হবে।’



সাতদিনের সেরা