kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

হুইপের বাড়ির পাশে অবৈধ টিকাদান

রবিউল সাময়িক বরখাস্ত, অধরা নির্দেশদাতারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

৫ আগস্ট, ২০২১ ০৩:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রবিউল সাময়িক বরখাস্ত, অধরা নির্দেশদাতারা!

জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর গ্রামের বাড়ির পাশে অবৈধ কেন্দ্র বানিয়ে সিনোফার্মের প্রায় তিন হাজার টিকা দেওয়ার ঘটনায় তাঁর অনুসারী মো. রবিউল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসংক্রান্ত একটি আদেশ চট্টগ্রামে আসে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. রবিউল হোসেন সরকারি নির্দেশনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার পরিপন্থী।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই কোল্ড স্টোরে সংরক্ষিত কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সংখ্যা এবং সরবরাহকৃত ভ্যাকসিনের সংখ্যার সঙ্গে গরমিল পরিলক্ষিত হয়েছে। সেহেতু সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৩(খ) ধারা মোতাবেক মো. রবিউল হোসেনকে ‘অসদাচরণের’ দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ১২(১) ধারা মোতাবেক তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

এর আগে এ ঘটনায় গত রবি ও সোমবার দুই দিন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. রবিউল হোসেনসহ ছয়জনকে শোকজ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। নিজেদের ভুল স্বীকার করে তাঁরা (ছয় কর্মচারী) গত মঙ্গলবার জবাব দেওয়ার কথা জানান পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যাসাচী নাথ। এর মধ্যে মো. রবিউল হোসেনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

টিকাকাণ্ডের ঘটনায় গত সোমবার রাতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়।

এদিকে পটিয়াসহ চট্টগ্রামে মানুষের মুখে মুখে—স্থানীয় সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর নির্দেশে তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মো. রবিউল হোসেনের (সাময়িক বরখাস্ত হওয়া) নেতৃত্বে সরকারি ছয়জন কর্মচারী নিবন্ধন ছাড়াই অবৈধভাবে এসব টিকা দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন। রবিউল তদন্ত কমিটির কাছে দুই হাজার ৬০০ টিকা দেওয়ার কথা জানালেও তদন্ত কমিটি কোল্ড বক্সে আরো ২৬৪ ডোজ টিকা পায়নি।

অবৈধভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোল্ড বক্স থেকে এসব টিকা নিয়ে যাওয়ার হোতা মো. রবিউল হোসেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন, হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সম্মতি ও নির্দেশনার কারণে সেখানে টিকা দেওয়া হয়েছে। হুইপ টিকাদানের অবৈধ কেন্দ্র পরিদর্শনও করেছেন।

রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অবৈধভাবে গত ৩০ ও ৩১ জুলাই দুই দিন পটিয়ার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের রশিদাবাদে হুইপের বাড়ির পাশে দুটি স্কুল ও কলেজে এসব টিকা দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে সামশুল নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও তাঁর অনুসারী রবিউল তদন্ত কমিটিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন, মানুষ যখন টিকা দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে আসছিল তখন তিনি বলেছেন হুইপের কাছে গিয়ে বলতে। তিনি বললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুইপ সম্মতি দিলে তিনি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাই অনেকের প্রশ্ন, হুইপ অবৈধ এ টিকাকাণ্ডের দায় কিভাবে এড়ান?



সাতদিনের সেরা