kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনায় মৃত্যু ১১৯ নয়, তিন শ’র বেশি

যে কারণে উঠে আসে না মৃত্যুর আসল সংখ্যা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে কারণে উঠে আসে না মৃত্যুর আসল সংখ্যা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহ আগে মারা যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার লাল বাজারের এক ব্যবসায়ী। মৃত্যুর পর আসা ফলাফলে তার করোনা পজিটিভের কথা জানা যায়। তবে মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি হোম আইসোলেশনে আছেন!

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে ফলাফল ‘বিভ্রাট’ হচ্ছে- অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য প্রতিবেদক খোঁজ নেওয়া শুরু করলে এ চিত্র পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদেরকে বিষয়টি জানানো হলে বুধবারের ফলাফলে ওই ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়।

পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন- এমন ব্যক্তি ফলাফলের তালিকায় নাও আসতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এতে মৃত্যুর তথ্য নিয়ে ‘বিভ্রাট’ হতে পারে বলেও কালের কণ্ঠের কাছে স্বীকার করেছেন খোদ সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ।

অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের চেয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তথ্য মতে। 

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র মতে, বুধবার সকাল নাগাদ প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে মৃতের সংখ্যা ১১৯ জন। জেলার সকল হাসপাতাল থেকে তথ্য নিয়ে সেটা উল্লেখ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৃতের সংখ্যা বুধবার নাগাদ ৩০৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একাধিক সূত্র থেকে তথ্য পেয়ে সেটা সন্নিবেশিত করে।

যদিও আইসোলেশনে থাকা কেউ মারা গেলে ফলাফল জানতে না পারার কারণে যোগ করা যায় না বিধায় এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। মূলত সাধারণ মানুষের জানার চাইতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৃতের সংখ্যা তিনগুণ বেশি। তবে আক্রান্তের তালিকা একই।  
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা সদর হাসপাতালসহ নয় উপজেলার হাসপাতাল এবং এলাকা এলাকায় গিয়ে করোনা নমুনা পরীক্ষা করে যে ফল পাওয়া যায় সেটি সমন্বয় করে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদেরকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পেজেও সেটি প্রকাশ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়। আর এটিকেই এলাকার মানুষ জেলার মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হিসেবে ধরে নেয়।

এদিকে হেলথ ইমার্জেন্সি এন্ড অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এসব ফলাফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রোগীদের তথ্যও তুলে ধরা হয়। যে কারণে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যের সঙ্গে এর রয়েছে বিস্তর ফারাক।
জেলার একাধিক সূত্র জানায়, পজিটিভ হওয়ার পর যারা আইসোলেশনে থাকেন তাদের খোঁজ শুরুতে নেওয়া হয়। অনেকে ফোন রিসিভ করেন অনেকে করেন না। এক্ষেত্রে কেউ মারা গেলে সেটা জানা সম্ভব হয় না। স্বজনরাও নিজ উদ্যোগে সেটি জানাতে চান না। কখনো যদি স্থানীয় সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায় তাহলে সেটি নিশ্চিত হয়ে ফলাফলের তালিকায় আনা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ বুধবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জেলার মধ্যে যারা আক্রান্ত হন কিংবা মারা যান সেই তথ্য তালিকায় উঠানো হয়। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যারা ঢাকা কিংবা অন্য কোনো এলাকায় গিয়ে মারা যান সেটা আমাদের জানা থাকে না। এছাড়া আক্রান্ত অনেকে বাড়িতে মারা গেলেও তাদের তথ্য জানতেও সমস্যা হয়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশের হাসপাতালের তথ্য পায় বলে সংখ্যা আমাদের চেয়ে বেশি হয়।’



সাতদিনের সেরা