kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

পানির নিচে মনিরামপুরের দুই হাজার বিঘা রোপা আমন

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০২১ ২১:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানির নিচে মনিরামপুরের দুই হাজার বিঘা রোপা আমন

দুই-তিন দিনের টানা ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বিলের দুই হাজার বিঘা রোপা আমন ক্ষেত। ঘের-বেড়ির কারণে এবং হরিহরনদীতে নাব্যতা না থাকায় বৃষ্টির পানি বেরুতে না পেরে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি চাষিদের। দ্রুত পানি সরাতে না পারলে আমন ক্ষেত নষ্ট হয়ে ক্ষতির আশঙ্কা তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্র মতে, মণিরামপুরে এবার তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দিনের ভারি বর্ষায় রোহিতা, কাশিমনগর ও মশ্মিমনগর ইউনিয়নের কয়েকটি বিলের ৫০ হেক্টর (৩৭৫ বিঘা) জমির আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দুই-তিন দিন বৃষ্টি না হলে কৃষকের তেমন ক্ষতি হবে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, ওই তিন ইউনিয়ন বাদেও খেদাপাড়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বিলের ৫০-৬০ বিঘা আম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া শ্যামকুড় ইউনিয়নের হাসাডাঙা, নাগোরঘোপ, জামলা, দক্ষিণ শ্যামকুড়, আগরহাটি ও আমিনপুর এলাকার প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমির রোপা আমন পানির নিচে।

উপজেলার সরসকাঠি গ্রামের চাষি বিল্লাল হোসেন বলেন, পানি সরতে না পেরে মুড়াগাছা, সালামতপুর ও সরসকাঠি বড় বিলের ৩০০-৪০০ বিঘা জমির আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিলের অধিকাংশ ক্ষেতে হাঁটু পানি। কিছু জমির ধান পানির তলে। কিছু জমির ধান কিঞ্চিত জেগে আছে। আবার কিছু জমি আছে যেখানে চাষি ধান রোপন করতে চাষ দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু পানির কারণে ধান লাগাতে পারেননি।

এই কৃষক বলেন, আমাদের ৭-৮ বিঘা আমন ক্ষেত পানিতে তলানো। পানি সরার ব্যবস্থা না থাকায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে অবস্থা তাতে ধান টিকবে বলে মনে হচ্ছে না।

রঘুনাথপুর বিলের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির আগে দুই বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছি। এখন সেখানে কোমর পানি। পানি সরতে না পারায় বিলের ৫০-৬০ বিঘা জমির আমন ক্ষেত তলানো।

শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, মঙ্গলবার সকালের বৃষ্টিতে ইউনিয়নের ছয়টি বিলের দেড় হাজার বিঘা রোপা আমন তলিয়ে গেছে। হরিহরনদীতে স্রোত নেই। মাঠের চেয়ে নদীতে পানি বেশি। এই জন্য পানি সরছে না।

কৃষকরা বলছেন, আর বৃষ্টি না হয়ে রোদ পড়লে পানি গরম হয়ে ধান গাছ পচে যাবে। পানি সরাতে না পারলে আমাদের বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাবে।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, সব ইউনিয়নের তথ্য পাইনি। রোহিতা, কাশিমনগর ও মশ্মিমনগর ইউনিয়নের ৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই-তিনদিন বৃষ্টি না হলে ধান বেঁচে যাবে। আমি সরেজমিন মাঠে যাচ্ছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা