kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ছেলেরা বাজারের স্বচ্ছল ব্যবসায়ী, বাবা থাকেন ব্রিজের নিচে!

লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০২১ ১৬:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেলেরা বাজারের স্বচ্ছল ব্যবসায়ী, বাবা থাকেন ব্রিজের নিচে!

এক কামরার ঘর। আয়তনে ১০-১২ ফুট হবে। চারদিকে টিনের বেড়া। মাথার ওপরে সরকারি ছাদ। কামরার চতুর্দিকে ফাঁকা জায়গা। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঘরে। এমনকি একটু উঁকি দিলেই রাতে চাঁদের আলোরও দেখা মেলে ঘর থেকে। 

কল্পনার চোখে দেখলে একটি 'রিসোর্ট ঘর' মনে হতে পারে। তবে বাস্তবতা মোটেও তেমন না। একটি ব্রিজের নিচে টিন দিয়ে ঘিরে একটি কমরা তৈরি করেছেন ৭০ বছর বয়সী আব্দুল হাকিম। সেখানেই ১০ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তার বসবাস।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নের শিবিরবাজার এলাকায় ব্রিজের নিচে গত ৬ মাস ধরে মেয়ে মিনারাকে নিয়ে বসবাস করেন এই বৃদ্ধ। এর আগে স্থানীয়দের মানুষের বাড়ির বারান্দায় দিন কাটাতেন। সবশেষে নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন এই আশ্রয়স্থল।

আব্দুল হাকিম জানান, এক সময় ঘর-বাড়ি, জমি, স্ত্রী-সন্তান সংসার সবই ছিল তার। ৩০ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তারা সবাই বিয়ে করে নিজ নিজ সংসার করছে। প্রথম সংসারের দুই ছেলেই ওই বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ১০ বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী মারা গেলে জমিজমা সব কিছু বিক্রি করে জন্মস্থান নেত্রকোনায় চলে যান। সেখানে তিন বছর থাকার পর আবারো রাঙামাটি চলে আসেন। দিনমজুরের কাজ করি আর মানুষের বাড়িতে থাকেন। দ্বিতীয় সংসারে দুই ছেলে আর একটি মেয়ে আছে। দুই ছেলেকে মামাবাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র মেয়েকে মিনারাকে নিয়ে ওই ঘরে বসবাস করেন তিনি।

আব্দুল হাকিম বলেন, আশ্রয়নের একটা ঘর পাওয়ার জন্য মেম্বার চেয়ারম্যানদের কাছে অনেকবার গিয়েছি। কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি। তবে কয়েকমাস আগে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ঘর পাওয়ার একটা আবেদন ইউএনও স্যারের নিকট দিয়েছি। ভাইস চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন সামনের বরাদ্দে আমার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করবেন।

স্থানীয় যুবক সামিউল বাশার সম্রাট বলেন, বৃদ্ধ আব্দুল হাকিম বেশ কিছুদিন যাবৎ বাজারের কাছে এই ব্রিজের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তার প্রথম সংসারের দুই ছেলে এই বাজারের স্বচ্ছল ব্যবসায়ী। কিন্তু বৃদ্ধ পিতার খোঁজ খবর তাঁরা রাখেন না।

কালাপাকুজ্যা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা মিয়া জানান, বৃদ্ধ আবদুল হাকিমের সন্তানরা সবাই স্বচ্ছল, ইচ্ছা করলে পিতার দুঃসময়ে তারা পাশে দাঁড়াতে পারে। আমার ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের সময় তিনি আমাদের কাছে আসেনি। সময়মতো আসলে একটি ঘর তাঁকে দেওয়া যেত।

লংগদু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রায় দুই মাস আগে আব্দুল হাকিম আশ্রয়নের ঘর পেতে একটি আবেদন আমাকে দিয়েছে। আমি আবেদনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দিয়েছি। আশা করছি সামনের বরাদ্দে আব্দুল হাকিমকে একটি ঘর দেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা