kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

শেবাচিম হাসপাতালে অভিযান, অপ্রয়োজনে দখলে থাকা আইসিইউ উদ্ধার

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০১:৫৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শেবাচিম হাসপাতালে অভিযান, অপ্রয়োজনে দখলে থাকা আইসিইউ উদ্ধার

কত কিছুই তো দখল হয়। বাড়ি, গাড়ি, খেয়াঘাট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পর্যন্ত। তাই বলে জরুরি মুহূর্তে জীবনরক্ষাকারী নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ)? তেমনটিই ঘটছে বিভাগীয় শহর বরিশালে এই অতিমারি করোনাকালে। 

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে আইসিইউ দখলের ঘটনা এখন নিয়মিতই হচ্ছে। এমনকি এ নিয়ে কালের কণ্ঠের অনলাইনে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল ‘বাড়ি দখল, হল দখল নয়; এবার রীতিমতো আইসিইউ দখল! ’শীর্ষ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

সংবাদ প্রকাশের পরেও অপ্রয়োজনে রোগীদের দখলে থাকা আইসিইউ উদ্ধারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছিল অসহায়। এমনকি রোগীদের দখলে থাকা শয্যাগুলো উদ্ধারে তাদের অনুরোধও কাছে আসছিল না। উল্টো শয্যা উদ্ধার করতে গিয়ে তারা লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন। অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এবার শুরু হয়েছে আইসিইউতে পুলিশি অভিযান। সোমবারের অভিযানে অন্তত চারটি আইসিইউ অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এই অভিযান অব্যহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার রোগীরা একবার আইসিইউ শয্যা পেলে আর তা ছাড়তে চান না। যখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের শয্যা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেন একটি পক্ষের চাপে তারা কাজটি করতে পারছিলেন না। যদিও ওই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল না। সিলিন্ডার কিংবা সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সাহায্যই তার জন্য যথেষ্ট। তবুও তিনি শয্যা ছাড়ছেন না। ঠিক একই সময়ে তার পাশে থাকা আরেক রোগী আইসিইউর অভাবে মারা যাচ্ছেন। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছেন। সে অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসনকে বলে সোমবার চারটি শয্যা অপ্রয়োজনে রাখা রোগীদের থেকে উদ্ধার করেছি।

বরিশালে নারীদের জন্য করোনা ওয়ার্ড
বরিশালে এই প্রথম গর্ভবতী মা ও নারীদের জন্য করোনা ওয়ার্ড চালু হয়েছে। বরিশাল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতালটির ২২ শয্যা করোনা ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত নারীদের সেখানে চিকিৎসা দেয়া হবে। এদিকে বরিশাল জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০টি করে শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এছাড়াও শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে ৩০০টি, বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালে ১০০টি শয্যা রয়েছে। সব মিলিয়ে বরিশাল জেলার ৬০০টি শয্যায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বেসরকারি সাউথ এ্যাপেলো মেডিক্যাল কলেজে করোনা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা হচ্ছে।

বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু দক্ষ জনবলের কারণে আইসিইউ সেবা বন্ধ ছিল। সেখানকার ৫ জন চিকিৎসককে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা ফিরে গিয়ে আইসিইউ পরিচালনা করবেন। তখন শেবাচিম হাসপাতালে রোগীদের একটু চাপ কমবে।

তিনি আরো বলেন, ভোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত পিসিআর ল্যাব এখন সচল রয়েছে। তাই কষ্ট করে সেখানকার রোগীদের আর বরিশালে আসতে হচ্ছে না।

ট্যাংকে আসছে অক্সিজেন
প্রায় দুই মাস আগে হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়। তরল অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এক্সপেকট্রার সঙ্গে রিফিল করার জন্য চুক্তি করতে হাসপাতাল পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু অন্য কম্পানির তুলনায় অক্সিজেনের দাম বেশি চাইছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সূত্রটি বলছে, ১০ হাজার লিটারের অক্সিজেন ট্যাংক প্রতিবার রিফিলের জন্য ২৫ হাজার ও পরিবহন বাবদ ১৪ হাজার টাকা দর দিয়েছে এক্সপেকট্রা। বিপরীতে রিফিলে ১৪ হাজার ও পরিবহন বাবদ ২ হাজার টাকা দর দিয়েছে লিনডে অপর একটি অক্সিজেন সরবরাহ কম্পানি। দর জটিলতার কারণে ট্যাংকে অক্সিজেন আসছে না।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সিলিন্ডার কিংবা অক্সিজেন সংকট তেমন একটা নেই। তবে কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, প্রত্যেকের জন্য একটা সিলিন্ডার বরাদ্দ। কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে তিনটি সিলিন্ডার নিজেদের কাছে আটকে রাখছেন। তাতে করে কেউ কেউ ঠিক সময় অক্সিজেন পাচ্ছেন না। সিলিন্ডারগুলো উদ্ধারের জন্য স্টাফরা চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে লাঞ্ছিত হচ্ছেন।

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় যে অন্তরায়গুলো সৃষ্টি হয়েছে, জেলা প্রশাসককে পুরো বিষয়গুলো অবহিত করেছি। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া আরো ৫০টি শয্যায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন দেওয়ার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শুরু হচ্ছে। ১০ হাজার লিটারের একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার (ট্যাংক) প্রস্তুত রয়েছে। সেখানে যে সমস্যা ছিল তা দ্রুত সময়ের মধ্যে কেটে যাচ্ছে। সিলিন্ডার অক্সিজেনে পূর্ণ হচ্ছে। একই সঙ্গে অক্সিজেন সংকট কেটে যাচ্ছে।



সাতদিনের সেরা