kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

লোহাগড়া জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ

মাদক-গেমস থেকে যুবসমাজকে ফেরাতে প্রশংসা কুড়াচ্ছে 'আলোর সহযাত্রী'

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি    

৩ আগস্ট, ২০২১ ১৫:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদক-গেমস থেকে যুবসমাজকে ফেরাতে প্রশংসা কুড়াচ্ছে 'আলোর সহযাত্রী'

করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ। আর তাই শিক্ষার্থী ও যুবকরা হতাশাগ্রস্ত। বাড়িতে বসে সময় অতিক্রম  করানোই যেন যুবকদের কাছে কষ্টের ব্যাপার বা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলছে লকডাউন। স্কুল বা কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডা দেয়া তো বন্ধই। এরই পাশাপাশি সরকার ঘোষিত লকডাউন আইন মানতে গিয়ে  রাস্তাঘাটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় পার করাও বন্ধ। মুক্ত বাতাসে ভাসতে পারছেন না যুবকরা। তাই হতাশা নিয়ে অনেক যুবকই ঝুঁকছেন মাদক বা গেমসের দিকে। গ্রাম্য রাস্তার মোড়ে বা বাগানের মধ্যে পালিয়ে থেকে যুবকরা ৮-১০ জনে গোল হয়ে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মোবাইলে গেমস খেলছেন।

খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, মাদক যেমন ধীরে ধীরে জিবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, ঠিক তেমনি মোবাইল গেমস এমন আসক্তি একটি যুবকের চেতনাশক্তিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়। মাদক ও গেমস দুটোই যুবকদের জন্য সর্বনাশা। আর তাই করোনাকালে যুবকদের নিয়ে ভেবেছেন নড়াইলের প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি যুবকদের মাঝে বই বিতরণের একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

ছাত্র, যুবক ও তরুণদের মাদক ও মোবাইল গেমস থেকে সরিয়ে  আনতে বই পড়ার মাধ্যমে আত্মশক্তির বিকাশ ঘটাতে সমাজের মানুষের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে একটি ব্যতিক্রম ও প্রশংসনীয় মহৎ উদ্যোগ উপস্থাপন করেছেন তিনি। 
              
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিবুর  রহমান 'আলোর সহযাত্রী' ব্যানারে নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলায় যুবকদের মাঝে বই বিতরণের মাধ্যমে তাদের উদ্দীপ্ত রাখতে ভূমিকা রাখছেন। সূত্র জানায়, গত বুধবার বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের 'সুলতান মঞ্চ' থেকেই 'আলোর সহযাত্রী'র শুভযাত্রা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান যুবকদের মাঝে বই বিতরণের মাধ্যমে এ শুভকাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই সাড়া ফেলেছে উদ্যোগটি।                   
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোসলিনা পারভীন নিজেই সোমবার গত ৩-৪ দিন ধরে 'আলোর সহযাত্রী' বই নিয়ে ছুটছেন শিক্ষার্থী ও তরুণ-যুবকদের কাছে। উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো করোনাকালে অলস সময় না কাটিয়ে শিক্ষার্থী, তরুণ ও যুবকরা যাতে বই পড়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।
                
লক্ষীপাশা মহিলা ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিতু খানম জানান, ডিসি স্যারের এ উদ্যোগ করোনার এ অসময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য যেন আশির্বাদ। লোহাগড়া পৌর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকবাল হাসান শিমুল বলেন, জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আমাদের সমাজকে জাগ্রত করতেই 'আলোর সহযাত্রী'  নামে বই বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এটি জেলা প্রশাসনের সামাজিক  ও  মননশীল ব্যাতিক্রম উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থী ও যুবকরা  উপকৃত হচ্ছে।
               
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোসলিনা পারভীন এ বিষয়ে বলেন, করোনা মহামারী বদলে দিয়েছে আমাদের চেনা জগত। এই সময়ে শিক্ষার্থী ও যুবকদের  আঁকড়ে ধরেছে মাদক ও মোবাইল গেইমস। তাদের হতাশামুক্ত ও প্রাণোচ্ছ্বল  রাখতে এবং আত্মশক্তির বিকাশ ঘটাতে জেলা প্রশাসক স্যার 'আলোর সহযাত্রী' নামে বই বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেয়ার পর তা সর্বমহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসনও  নিয়মিত বই বিতরণ করছে। 
             
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, প্রথম পর্যায়ে 'আলোর সহযাত্রী' কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধু- বাংলাদেশ  ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঁচশত বই বিতরণ করা হচ্ছে। 



সাতদিনের সেরা