kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

তাড়াশে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২১ ২১:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাড়াশে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচের আওতায় পানাসি (পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ) প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্রের লাইসেন্স দিতে এক কৃষকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি মহলের ষড়যন্ত্র।

আজ সোমবার উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের গুড়মা গ্রামের কৃষক আবু হানিফ প্রতিকার চেয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেচ কমিটির সভাপতি মো. মেজবাউল করিম বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুড়মা গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে কৃষক মো. আবু হানিফ তার জমিতে একটি বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্রের সংযোগ পাওয়ার জন্য গত ৬ জানুয়ারি তাড়াশ উপজেলা সেচ কমিটি বরাবর সেচ লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন। আবু হানিফের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাড়াশে বিএডিসির পানাসি প্রকল্পে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন সরেজমিনে গুড়মা গ্রামের মাঠে ক্ষুদ্র সেচ পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি সংযোগ দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে ওই কৃষকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এতে করে তিনি প্রথম দফায় উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মুঠোফোনে বিকাশ একাউন্টে ছয় হাজার এক শ পঁচিশ টাকা দেন। পরে আবারও তার দাবির প্রেক্ষিতে গ্রামের বাজারে তিনি আসলে সেখানে তিনজন স্বাক্ষীর সম্মুখে আরো ৩০ হাজার ঘুষের টাকা তার হাতে তুলে দেন। পরে তাড়াশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস কৃষক আবু হানিফের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্রের জন্য ডিমান্ড চার্জ জমা প্রদানের জন্য চিঠি দেন। চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক কৃষক আবু হানিফ ডিমান্ড চার্জও জমা দেন। এতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ওই কৃষককে বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্র দিতে নিয়মানুযায়ী লাইনও নির্মাণ করে দেন।

এ সময় উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পানাসি) মো. ইমাম হোসেন আবারও কৃষক আবু হানিফকে ডেকে তার কাছে আরো ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। অন্যথায় ঘুষের টাকা না দিলে তার সেচ যন্ত্রের সংযোগ না দেয়ার জন্য পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বরাবর বিষয়টি লিখবেন বলে হুমকি দেন। পরে ওই কৃষক ঘুষ না দেওয়ায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী সংযোগ বন্ধ রাখতে পল্লীবিদ্যুৎ বরাবর একটি চিঠি দেন। এতে কৃষক আবু হানিফ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

এতে করে দিশেহারা হয়ে ওই কৃষক এর প্রতিকার চেয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্ববাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেজবাউল করিম বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জানতে চাওয়া হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র। নিয়ম অনুযায়ী সেচ সনদ প্রাপ্তির পর পল্লীবিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করবে। কিন্তু কৃষক আবু হানিফকে কোনো প্রকার সেচ সনদ প্রদান করার আগেই বিদ্যুতে লাইন নির্মাণ হয় কি করে? এটি অনিয়মতান্ত্রিক হওয়ায় আমি পল্লীবিদ্যুৎকে সংযোগ না দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেজবাউল করিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 



সাতদিনের সেরা