kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনাকালে চাকরি হারিয়ে ১৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন সখিনা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ    

২ আগস্ট, ২০২১ ১৯:৩৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাকালে চাকরি হারিয়ে ১৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন সখিনা

বাবা-মা মারা যাওয়ার পর দুই ভাই ও এক বোনকে নিয়ে অথৈ সাগরে হাবু-ডুবু খান বিধবা সখিনা বেগম। এ অবস্থায় কাজের সন্ধানে প্রতিবেশী একজনের সহযোগিতায় ১৮ বছর আগে পাড়ি জমান নরিসিংদিতে। সেখানে একটি সুতার কারখানায় কাজ করে ভাই বোনকেও কাজ যুগিয়ে দেন। আর সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু করোনাকালে কিছুদিন ঠিকে থাকলেও চাকরি হারিয়ে এখন আর ঠিকতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে এক অনিশ্চিয়তার মধ্যে চলে আসেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরুইল ইউনিয়নের এক গ্রামের নিজ ভিটেয়। 

সোমবার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল নরসুন্দা নদীর ওপর সেতু পার হচ্ছিলেন দুইজন নারীসহ পারিবারিক মালামাল বোঝাই একটি পিকআপ। এসময় পিকআপটি আটকিয়ে শ্রমিক কল্যাণের নামে চালকের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছিলেন এক যুবক। ওই সময় চোখে পড়ে পিকআপ বোঝাই দৃশ্য। মিনিট দুয়েক দাঁড়ানোর সময় এ প্রতিনিধি পিছনে বসা এক নারীকে সালাম দিলে লাজুক হয়ে সালামের উত্তর নেন। কোথায় থেকে আসলেন, যাচ্ছেন কোথায় জানতে চাইলে ওই নারী (৫৫) বলেন, ‘সবই ভাগ্য। এইহান দিয়াই গত ১৮ বছর আগে গেছিলাম কাম করতে নরসিংদি। আর অহন হিবার (আবার) ফিরঅন লাগতাছে গ্রামে।’

কেন কি হইছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘চাকরি গেছে, এক জনের না তিনজনের। অহন হেইনো থাইক্যা খাইয়াম কি? চলবাম কিবায়? অনেক চেষ্টা করছি আর পারলাম না। দেড় বছর ধইর‌্যা ঘরভাড়া বাহি (বাকি)। খাঅন তো পরের কথা। ওইহানে থাকলে মইর‌্যা যাইয়াম। এর লাইগ্যা চইল্যা আইছি। মরলে ভিটাত মরি।’ 

পরে জানা যায়, তার নাম সখিনা বেগম। গ্রামের নাম বলেননি। বিয়ের তিন বছর পর স্বামী মারা যান। এরপর ভাই বোনদের দিকে থাকিয়ে আর বিয়ে করেননি। এক ভাই ও বোনের দুই সন্তানদের নিয়ে কোনো মতে জীবন চলছিল। এখন আর চলছে না। থেমে গেছে জীবন চলার চাকা। এখন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে যা আছে তা দিয়েই কোনো মতে চলার চেষ্টা করবেন। সখিনা জানান, তাঁর সঙ্গে আরো ১০টি পরিবারের একই অবস্থা। তাঁরাও শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।



সাতদিনের সেরা