kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

এ কেমন কাজী, কনেই জানেন না তার বিয়ে হয়ে গেছে!

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২১ ১৭:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এ কেমন কাজী, কনেই জানেন না তার বিয়ে হয়ে গেছে!

প্রতীকী ছবি।

বিয়ের কনে জানেন না তার বিয়ে হয়েছে। জানে না তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন। অথচ এক ব্যক্তি বিয়ের কাবিন নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভুক্তভোগী মেয়েটির বিয়ে ভেঙে দিয়ে তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এরকমই এক অভিনব প্রতারনামূলক ভুয়া বিয়ের কাবিননামা তৈরি করেছেন ব্যক্তি। আর তার অভিনব প্রতারণার নীলনকশা বাস্তবায়নে সহযাত্রী হয়েছেন একজন বিয়ের নিবন্ধক মাওলানা ও কাজী।

বিয়ের নিবন্ধন যিনি করেছেন সেই কাজীর সামনে বিয়ের কনে উপস্থিত না হওয়ার পরও মিথ্যা স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য নিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করে ফেলেছেন। ভুয়া বিয়ের নিবন্ধক হবিগঞ্জ পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের কাজী মাও. নাজমুল হোসেন। আর ভুয়া বিয়ের বর মো. আসাদ খান। তিনি বানিয়াচং উপজেলার তকবাজখানী গ্রামের মৃত আব্দুস শহীদ খানের ছেলে।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে ভুক্তভোগী মেয়েটির দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবার অন্য এক ছেলের সঙ্গে চলতি আগস্ট মাসের ৮ তারিখ পারিবারিকভাবে বিয়ের দিন ঠিক করে। এর আগে থেকে মেয়েটিকে বিরক্ত করে আসছিল অভিযুক্ত। উত্যক্ত করার অভিযোগে মেয়েটির পরিবার এরই মধ্যে অভিযোগ করায় বিচার-সালিসে ছেলেটিকে শাসিয়ে দেওয়া হয়। এর আগেও আরো একবার মেয়েটির বিয়ে বাতিল হয়েছে ছেলেটির মিথ্যা অভিযোগে।

কাজীর যোগসাজেসে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করায় ভুক্তভোগী মেয়ে ও তার পরিবার একেবারেই হতবাক হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিয়ে নিবন্ধন ও প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসাদ খানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেননি তিনি। এফিডেভিটকারী অ্যাডভোকেট পবিত্র কুমার দাশ স্বীকার করেন, তিনি যাবতীয় ডকুমেন্টস দেখেই স্বাক্ষর করেছেন। তবে তিনি কোনো মেয়েকে দেখেননি। 

অভিযুক্ত কাজী মাওলানা মো. নাজমুল হোসেন বিয়ে নিবন্ধনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘অবশ্যই মেয়েটি আমার অফিসে এসেছে। আমি কোনো ভুয়া বিয়ের নিবন্ধন করি নাই।’ 

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘অভিযুক্ত ছেলেটি আমার কাছে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে। সে বলেছে সে ক্ষোভে এরকম কাণ্ড ঘটিয়েছে। এটাও স্বীকার করেছে বানিয়াচংয়ের কোনো কাজী এরকম বিয়ের নিবন্ধন করে নাই বলে হবিগঞ্জ গিয়ে বেশি টাকা দিয়ে এরকম কাজ করিয়েছে।’



সাতদিনের সেরা