kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

মাদকাসক্ত স্বামী-সন্তানের অত্যাচারে অসহায় তাঁরা

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২১ ০৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদকাসক্ত স্বামী-সন্তানের অত্যাচারে অসহায় তাঁরা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের হারাবাড়ি গ্রাম। এই গ্রামের তিনি বাসিন্দা জিন্নত আলী, মনিরা খাতুন ও লাইলী বেগম। তারা সকলেই আলাদা আলাদা পরিবারের সদস্য। মাদকাসক্ত স্বামী-সন্তানের অত্যাচারে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। অসহায় তিনটি পরিবার গতকাল রবিবার মাদকাসক্ত স্বামী-সন্তানের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অনুরোধ করে লিখিত আবেদন করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদনে, জিন্নত আলী (৬২) তার ছেলে কবির (৪০), মনিরা খাতুন (২৮) তার স্বামী রিপন (৩২) এবং লাইলী বেগম (৬৫) তার ছেলে হুমায়ুন (৩০) মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছেন। তারা সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় নেশা করে ঘরে এসে পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে নির্যাতন করে। নেশার টাকা না দিলে তারা ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

তারা স্ব-শরীরে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আলাদা আলাদা লিখিত আবেদন দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েই কথা হয় তাদের সাথে। আবেদনকারীর একজন জিন্নত আলীর জানান, 'ছেলে কবীরকে নিয়ে আমি খুব বিপদে আছি । স্ত্রী সন্তানের কোন খবর নেয় না। সংসারে যা কিছু ছিল নেশা খাইয়া সব শেষ কইরা দিল। কোনোভাবেই তাকে সামলানো যাচ্ছে না। এর আগেও দুইবার পুলিশের কাছে নিজে ধরাইয়া দিছি তারপরও ঠিক হয় নাই। সন্তানের জন্য মায়া কইরা কি করমু বাধ্য হইয়া এবার ইউএনও স্যারের কাছে আবেদন করছি। স্যার জানি ওরে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।'

লাইলী বেগম জানান, 'নেশা খাইয়া পোলাডায় আমারে শেষ কইরা দিল। সারাদিন ভিক্ষা করে যা রোজগার করে বাড়িতে নিয়া আহি সন্ধ্যায় আইয়া পোলায় সব নিয়া যায়। না দিলে মারতে আসে। বকাঝকা করে, বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। স্ত্রী সন্তানদেরও কোন খবর নেয় না। পোলারে এহনই আপনারা ধইরা আনেন আমারে বাচাঁন।'

মনিরা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী রিপন সারাদিন রিকশা চালাইয়া যা আয় করে তা দিয়ে নেশা করে বাড়ি ফিরে। কিছু বললেই মারধর করে। আমি দুই সন্তানের মুখে আহার তুলে দেবার জন্য মানুষের বাড়িতে কাজ করি। মানুষের বাড়ি কাজ করে যে আয় হয় তাও জোর করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, আমি আবেদনপত্রগুলো সাথে সাথে ঘাটাইল থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।



সাতদিনের সেরা