kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

এবার ইতিবাচক খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২ আগস্ট, ২০২১ ০৯:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার ইতিবাচক খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মুমূর্ষু রোগীর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুঁটছেন বাবা-ছেলে।

মো. নাসির মিয়া আইনজীবী। ছেলে মুহূয়ী শারদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট হওয়া তাদের ছবি অনেকের নজর কাড়ে। ছবিতে দেখা যায়, একটি রিকশায় করে বাবা-ছেলে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকপাড়ার সুব্রত রায় নামে এক ব্যক্তির অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়লে সাংবাদিক চয়ন বিশ্বাসের কাছ থেকে ফোন পেয়ে ছুটে যান বাবা-ছেলে। ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ব্রিগেড’ এর হয়ে ফ্রি অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নাসির মিয়া ও মুহূয়ী শারদ।

সাংবাদিক চয়ন বিশ্বাস বলেন, ‘সেদিন আলাউদ্দিন খাঁ ব্রিগেডের পাশাপাশি ‘বাউনবাইরার কতা নামে’ একটি ফেসবুক সংগঠনের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত সুব্রত রায়ের জন্য দু’টি সিলিন্ডার সংগ্রহ করা হয়। রবিবার (০১ আগস্ট) দুপুরের পর থেকে তিনি অনেকটাই ভালো আছেন।’

একের পর এক সংঘর্ষসহ নানা অনাকাঙ্খিত খবরের ভিড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবতা জেগে উঠার খবরও আছে। করোনা মহামারির এই দুঃসময়ে অক্সিজেন সেবা নিয়ে ছুটে চলেছেন অনেকেই। সংগঠন কিংবা ব্যক্তি উদ্যোগে চলছে এ সেবা। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন খাদ্য সহায়তা নিয়ে।

এদিকে জেলায় করোনা পরিস্থিতি দিনকে দিন আরো অবনতির দিকে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশনে প্রতিদিন কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে জেলায় মারা গেছেন ১৪ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৮৫ জন। জুলাইয়ে মোট মৃত্যু সংখ্যা ৩৯ জন। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৩৯ জন। উপসর্গে মৃত্যুর সঠিক কোনো হিসেব নেই। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনেক তথ্যই আসছে না। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ি, রবিবার জেলায় সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যার এত উর্ধ্বগতির মধ্যে জেলায় অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে এসেছেন অক্সিজেন সেবা নিয়ে। জেলা প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০ এর বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়ছে বলে ধারণা পাওয়া যায়। বেসরকারি উদ্যোগ দেখে অনেকে উদ্যোক্তাদের সিলিন্ডার দিতে এগিয়ে এসেছেন। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতেও চালু আছে অক্সিজেন সেবা।

হাসপাতালের বাইরে রেডক্রিসেন্ট ইউনিট প্রথমে চালু করে অক্সিজেন সেবা। তবে তারা তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। তাঁদের কাছ থেকে অক্সিজেন চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অক্সিজেন দেয়ার পর দ্রুত সেটা ফিরিয়ে নেয়ার তাগাদার অভিযোগও করেছেন অনেকে।

অক্সিজেন সেবায় প্রথম আলোচনায় আসে ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ব্রিগেড’। গত এক সপ্তাহে তারা ২৫ জন রোগীকে অক্সিজেন সেবা দিতে পেরেছেন। শুরুতে চারটি সিলিন্ডার দিয়ে শুরু করলেও এখন তাঁদের সিলিন্ডার সংখ্যা ২৫টি। অক্সিজেন সেবা নিয়ে এগিয়ে এসেছে জেলা ছাত্রলীগ ও পৌর ছাত্রলীগ। ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন ‘বাওনবাইরার কতা’ এবং ‘আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ ও ‘ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামে দু’টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বেশ জোরেশোরে অক্সিজেন সেবা দেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই তাদের কাছে একাধিক রোগীর স্বজনদের ফোন আসছে। ফোন পেয়ে সংগঠনগুলো বাড়িতে নিয়ে অক্সিজেন দিয়ে আসছে।

এদিকে নিজ সংসদীয় এলাকা আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২টি অক্সিজেন উপহার দিয়েছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। একই হাসপাতালে আশিকুর রহমান নাঈম নামে এক যুবকের উদ্যোগে নেবুলাইজার ও অক্সিমিটার দেয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের ময়মনসিংহের পরিচালক ডা. মো. শাহ আলম ওই হাসপাতালের জন্য পাঁচটি অক্সিমিটার পাঠিয়েছেন যা সোমবার হস্তান্তরের কথা রয়েছে।



সাতদিনের সেরা