kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমালোচনা করায় আ.লীগ সম্পাদকের বাড়িতে আগুন!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১ আগস্ট, ২০২১ ২১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমালোচনা করায় আ.লীগ সম্পাদকের বাড়িতে আগুন!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সৈয়দ মো. নজরুল ইসলামকে (৫২) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সংখ্যা ও নাম উল্লেখ না করে আরো অনেককে আসামি করা হয়। শনিবার রাতে আল-মামুন সরকার বাদী হয়ে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বঙ্গবন্ধুর খুনী তাহের উদ্দিন ঠাকুর ও তার সুবিধাভোগী আত্মীয়দের নিয়ে সমালোচনার জের ধরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আল-মামুন সরকার জানান, অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম হলেন তাহের উদ্দিন ঠাকুরের আত্মীয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আগের দিন পুড়িয়ে দেওয়া বাড়িটি জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী প্রয়াত হাবিবুর রহমানের বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ। সভায় বঙ্গবন্ধুর খুনি তাহের ঠাকুর ও তাঁর সুবিধাভোগী আত্মীয়দের বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন আল মামুন সরকার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে মুঠোফোনে তাহের ঠাকুরের নিকট আত্মীয় মামলার আসামি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অকথ্য ভাষায় আল-মামুন সরকারকে গালিগালাজ করেন। পরের দিন থেকে নজরুল ইসলাম ধারাবাহিকভাবে নিজের ফেসবুক আইডিতে আল-মামুন সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও চরম মানহানিকর স্ট্যাটাস দিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। গত ২৫ জুলাই নজরুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক আইডিতে আল-মামুন সরকারের শ্বশুর প্রয়াত ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ সম্পর্কে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বাগানবাড়ির শ্বশুরবাড়িটিকে বঙ্গবন্ধুর খুনী শাহরিয়ারের বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করেন। পরের দিন জুলাই বিকেলে জনৈক মদ্যপ ব্যক্তিকে দিয়ে শ্বশুরবাড়ির ফটকে গালিগালা করানো হয়। ৩০ জুলাই বিকেলে নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে আল-মামুন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অসত্য বক্তব্যসহ মুন্সেফপাড়ার বসতবাড়িটি যুদ্ধাপরাধী ও কুমিল্লা জেলা জামায়াতের আমির মৃত হাবিবুর রহমানের উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দেন। তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে ওই স্ট্যাটাসে সহমত পোষণ করে মন্তব্য করেছেন।

আল-মামুন সরকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রত্যক্ষভাবে এবং তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাঁকে সমর্থনকারী ব্যক্তিরা এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত অনেকে পরোক্ষভাবে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। অগ্নিসংযোগে আল মামুন সরকারের বাড়ির চারটি কক্ষের ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকার আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আল-মামুন সরকারের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার পর পরই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। নিজেকে সব সময় নাশকতার বিপক্ষে উল্লেখ করে এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান। 

গত ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতালের সময় আল-মামুন সরকারের মুন্সেফপাড়ার বাসভবন, বাগানবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাণ্ডব চালানো হয়। চার মাসের ব্যবধানে গত শনিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে আল-মামুন সরকারের মুন্সেফপাড়ার বাড়িতে আবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।



সাতদিনের সেরা