kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

প্রেম করে বিয়ে, যৌতুকের দাবিতে হাত-পা-মুখ বেঁধে তরুণীকে হত্যাচেষ্টা

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১ আগস্ট, ২০২১ ২০:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রেম করে বিয়ে, যৌতুকের দাবিতে হাত-পা-মুখ বেঁধে তরুণীকে হত্যাচেষ্টা

মাইফুল নেছা (২৩) ও আবু তাহেরের (২৮) মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ৮ মাস আগে পরিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের। বর্তমানে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাইফুল। কিন্তু যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন স্বামী আবু তাহের জান্নাত ও তার পরিবারের লোকজন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার সময় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদলারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতে ভুক্তভোগী মাইফুল নেছা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- মাইফুল নেছার স্বামী আবু তাহের জান্নাত (২৮), শ্বশুর সাজিদ মিয়া (৬০), দেবর জাকির হোসেন (২২) ও বাবুল মিয়া (২৫) এবং ইউনিয়নের ননাই (টেন্টারপাড়া) গ্রামের জান্নাতের মামা আলী হোসেন (৪০)।

জানা যায়, বিয়ের পর স্বামী আবু তাহের জান্নাত শ্বশুর বাড়ির পার্শ্ববর্তী ভোলাখালি গ্রামে ভাড়া বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে উঠেন। এখানেই জান্নাত তার বাবা ও দুই ভাইকে নিয়ে পোল্ট্রি মোরগের ব্যবসা করেন।

আহত গৃহবধূর বড় ভাই মো. এবায়দুল্লাহর বক্তব্য ও এজাহার সুত্রে জানা যায়, প্রেম করে মাইফুল বিয়ে করেছিল আবু তাহের জান্নাতকে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী টাকার জন্য মাইফুলকে নির্যাতন করে আসছে। তার দাবির প্রেক্ষিতে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও মাইফুলের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এখন আবার মোটরসাইকেল কেনার জন্য স্বামী আরো টাকা চায়। কিন্তু মাইফুলের দরিদ্র পরিবার তা দিতে পারেনি। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত কয়েকদিন ধরে মাইফুল বাবার বাড়িতে আছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার সময় মাইফুল বাড়ির পিছনে ভাঙারখালের পাশে অবস্তিত টয়লেটে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে যায়। এ সময় অভিযুক্তরা তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে বস্তায় ঢুকিয়ে পাশেই ভাঙারখালে ডুবিয়ে দিতে চায়। কিন্তু গ্রামের লোকজন টের পাওয়ায় অভিযুক্তরা দৌড়ে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী বস্তা থেকে হাতা পা বাধাঁ অবস্থায় মাইফুলকে উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। 

এনিয়ে অভিযুক্ত আবু তাহের জান্নাতের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, ‘ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে তার স্বামী, শ্বশুর, দুই দেবর ও মামা শ্বশুরের বিরদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’



সাতদিনের সেরা