kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ

কাগজে কলমে ‘মৃত’ সুজিত জীবিত হলেন, পেলেন ত্রাণও

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১ আগস্ট, ২০২১ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাগজে কলমে ‘মৃত’ সুজিত জীবিত হলেন, পেলেন ত্রাণও

কাগজে কলমে মৃত থাকা দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সুজিত চন্দ্র সরকার অবশেষে জীবিত হলেন। রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার তার হাতে সংশোধিত কাগজ তুলে দেন। এছাড়াও চলমান লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ত্রাণ প্রদান করা হয়। শনিবার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার সুজিতকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) কালের কণ্ঠ অনলাইনে ‘মৃত থেকে জীবিত হতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শিল্পি সুজিত’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে এটি সমাধানের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। 

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘২০১৯ সালে সারা দেশে নতুন করে ভোটার তালিকা হাল নাগাদ করা হয়। সেই সময় সুজিত চন্দ্র সরকারের গ্রামের একই নামে অন্য এক ব্যত্তির মৃতু হয়। ওই সময় জীবিত সুজিত চন্দ্র সরকারের নাম বাদ পড়ে যায়। 

সুজিত বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় দুবছর জীবিত থেকেও কাগজে কলমে মৃত ছিলাম। এতদিন পর আবার জীবিত হওয়ার সনদ পেয়ে খুব খুশি লাগছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চলমান লকডাউনে দীর্ঘদিন গান বাজনা বন্ধ থাকায় কষ্টে দিন পার করায় ইউএনও স্যার ত্রাণ দিয়েছেন।’

সুজিত বলেন, ‘গান আর তবলা বাজিয়ে চলে সংসার। জেলা প্রশাসনের দেওয়া গত তিনমাস আগে ব্যাংকে করোনা প্রণোদনার একটি চেক ভাঙাতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশনে জানতে পারি আমি নাকি মারা গেছি। সেই থেকে কাগজে-কলমে মৃত থেকে জীবিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করি। দীর্ঘদিন পর আজ আবারো জাতীয় পরিচয় পত্রে সংযোজন হলাম।’

সুজিত চন্দ্র সরকারের (৫৩) বাড়ি দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলার ২নং কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামে। তার বাবার নাম অভিনাশ চন্দ্র সরকার। মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তবলা বাঁজিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে কষ্টের সংসার। উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা মো. আতাউল হক বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠ অনলাইনে সুজিতকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়’। তিনি জানান, বিষয়টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নজরে আসলে তিনি দ্রুত তার কাগজটি সংশোধনের জন্য নির্দেশ দেন। পরে সুজিত চন্দ্রের কাগজটি সংশোধন করে ভোটার তালিকার নতুন একটি কাগজ তার হাতে দেওয়া হয়েছে।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ‘শিল্পী সুজিত রায়ের সমস্যার বিয়ষটি নিয়ে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ভোটার তালিকায় তার তথ্যগত সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। করোনায় কর্মহীন থাকায় তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা