kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

'দুপুরে বিয়ে, ভোরে গিয়ে কনেকে ছুরিকাঘাত!'

পাঁচ দিন পর মৃত্যুর কোলে তারমিনা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

১ আগস্ট, ২০২১ ১২:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ দিন পর মৃত্যুর কোলে তারমিনা

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিয়ের দিন ভোরে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ছুরিকাঘাতে আহত সেই তারমিনা আক্তার ওরফে ফুলতি (১৪) চিকিৎসাধীন থাকার ৫ দিনের মাথায় আজ রবিবার (১ আগস্ট) সকালে মৃত্যৃর কোলে ঢলে পড়লেন। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে গত বুধবার (২৮ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সাজানোগ্রাম এলাকায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওইদিন সকালে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার বুক ও পেটের মাঝামাঝি স্থানে রক্তনালী কেটে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষণে সে মারা যায়। তারমিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবেদনটি কালের কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণে ‘দুপুরে বিয়ে, ভোরে গিয়ে কনেকে ছুরিকাঘাত!' শিরোনামে প্রকাশ হয়। 

এদিকে ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার ঘাতক শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। তারমিনা লোহানীপাড়া দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তোয়াব আলী ও পারভিন আক্তার দম্পত্তির দ্বিতীয় সন্তান ছিল তারমিনা আক্তার ওরফে ফুলতি। তার এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা এলাকার পশ্চিম বড়বালায় তারমিনা আক্তারের বড় বোন তহমিনার বিয়ে হয়। তহমিনার আত্মীয়তার সম্পর্কের একই এলাকার মোনায়েম হোসেনের বখাটে ছেলে শাখাওয়াতের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তারমিনার ওপর। শাখাওয়াত হোসেন প্রেমের প্রস্তাব দেয় তারমিনাকে। বিয়ের বয়স না হলেও ওই বখাটের দুশ্চিন্তায় পারিবারিকভাবে তড়িঘড়ি করে গত বুধবার (২৮ জুলাই) তারমিনাকে একই ইউনিয়নের গাছুয়াপাড়া এলাকায় বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। এ ঘটনা জানতে পেয়ে শাখাওয়াত হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারমিনার পরিবারের ওপর। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে তারমিনার বাড়িতে যান শাখাওয়াত। তখন বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ অবস্থায় ঘুমন্ত তারমিনাকে ভোরে ডেকে দরজার কাছে ছুরি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করেন অভিযুক্ত। এতে তারমিনার বুক, দুই উরু ও পাজর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তারমিনা। বাড়ির লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চেতনা হারিয়ে ফেলেন তারমিনা। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শাখাওয়াত হোসেনকে ধাওয়া দিলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তারমিনাকে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। গত পাঁচদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল হতভাগীনি। 

তারমিনার মামা মানিক মিয়া বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে শেষবারের মত কথা বলেছিল সে। এর থেকে সে জ্ঞানহারা ছিল। আজ সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে সে মারা যায়। শত চেষ্টা করেও আমার ভাগনীকে বাঁচানো গেল না। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করেছে তারমিনার বাবা তোয়াব আলী। ধারদেনা করে তিনি এখন নিঃস্ব। এরপরেও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন বলে তিনি ডুকরে কেঁদে ওঠেন। 

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ঘাতকের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। এখন সেটি হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। আসামিকে ধরতে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। 

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. হামিদুল ইসলাম বলেন, মেয়েটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তার বুক ও পেটের মাঝামাঝি স্থানে রক্তনালী কেটে যায়। মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পেটের ভেতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষণে সে মারা যায় বলে জানান তিনি। 



সাতদিনের সেরা