kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

করোনায় মৃত্যুতে নিজ গ্রামের শ্মশানে শেষ ঠাঁই হলো না সুমনের

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণাবাড়িয়া   

৩১ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় মৃত্যুতে নিজ গ্রামের শ্মশানে শেষ ঠাঁই হলো না সুমনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামের সুমন আচার্য্য (৩৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান শুক্রবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায়। 

সৎকারের জন্য রাতেই তাঁকে গ্রামের শ্মশানে নিয়ে আসা হয়। তবে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে না আসায় সেখানে তাঁর সৎকার করা সম্ভব হয়নি। পরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্বশুর বাড়ির এলাকার শ্মশানের তাঁর সৎকার করা হয়।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফান্দাউক গ্রামের বিনয় আচার্য্যের ছেলে সুমন আচার্য্য করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মারা যান এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক সুমন। রাত ২টার দিকে তাঁর লাশ গ্রামের শ্মশানে নিয়ে আসেন সঙ্গে থাকা দুই স্বজন। তবে সৎকারের জন্য এলাকার লোকজন এগিয়ে না আসায় তাঁকে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৃত্যুর পরই সুমনের স্বজনরা সৎকারের জন্য যোগাযোগ শুরু করেন। আচার্য্য সমাজের লোকজন এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসতে চাননি। যে কারণে দীর্ঘ সময় শ্মশানে লাশ ফেলে রেখে উপায়ন্তু না দেখে শ্রীমঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সুমন আচার্য্যর প্রতিবেশি ভূদেব আচার্য্য এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি অসুস্থ। সুমনের মৃত্যুর খবর পেয়ে সৎকারের জন্য যা যা প্রয়োজন হয় সেগুলো প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করি। এরই মধ্যে সৎকারে অংশ নিতে এলাকার লোকজনকে আহবান জানানো হয়। কিন্তু করোনার ভয়, রাত বেশি হওয়ার, বৃষ্টি থাকার কারণে লোকজন তেমন হয়নি। 

সুমনের শ্বশুর বাড়ির লোকজনও চাচ্ছিলেন যেন তাঁদের এখানে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. আলমগীর শাহ শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘সুমনের সৎকারের বিষয়ে আমাদেরকে অবহিত করা হয়নি। তবে করোনার ভয়ে লোকজন না আসায় তাকে গ্রামের শ্মশানে দাহ করা যায়নি।’ 

সুমনের নিকটাত্মীয় রনি আচার্য্য সাংবাদিকদেরকে জানান, স্থানীয়ভাবে সাড়া না পাওয়ায় শ্রীমঙ্গলের সৎকার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে পৌর শ্মশানে সুমনের সৎকার সম্পন্ন করা হয়।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সৎকার কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ভানু লাল রায় এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সুমন আচার্য্যর আত্মীয় বাবলু আচার্য্য রাতেই আমাকে বিষয়টি জানান। পরে সকালে তিনি আমার বাসায় গিয়ে জানান লাশ নিয়ে এসেছেন। পরে সৎকার কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে লাশের সৎকার করা হয়। সুমনের স্বজনরা জানিয়েছেন করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে নিজ এলাকায় তাঁর সৎকারে লোকজন এগিয়ে না আসায় এখানে নিয়ে এসেছেন।’



সাতদিনের সেরা