kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

শুধু ঘর নয়, এক আশ্রয়ণে জীবনের সব আয়োজন

শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ   

৩১ জুলাই, ২০২১ ১৯:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুধু ঘর নয়, এক আশ্রয়ণে জীবনের সব আয়োজন

প্রায় সব জায়গায় গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্য বানানো ঘরগুলোতে কমবেশি ক্রটি বিচ্যুতি থাকে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগও পাওয়া যায়। তবে কিশোরগঞ্জের যশোদলে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি একেবারে আদর্শ একটি গ্রাম হয়ে উঠেছে। আন্তরিকতার সঙ্গে ভালো কিছু করার ইচ্ছে থাকলে, সবই সম্ভব হয় যার দেখা মিলিছে যশোদল আশ্রয়ণ প্রকল্প গিয়ে।

আজ শনিবার দুপুরে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় এক দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ। সবুজ গাছপালাবেষ্টিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে ২২টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে শুধু ঘর নয়, শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠ, দোলনাসহ নানাধরনের খেলাধুলার আয়োজন, চারপাশে লেক, নামাজের জন্য পৃথক ব্যবস্থা- সবমিলিয়ে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করে দেওয়া হয়েছে সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী আলী হায়দার এখানে একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ঘরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তবে এখানে শিশু থেকে শুরু করে সবার বিনোদনের, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডসহ যা যা করে দেওয়া হয়েছে, এ আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমরা খুবই খুশি হয়েছি এমন একটা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে। ফাতেমা বেগম ও কমলা আক্তারও ঘরে উঠেছেন। এত সুন্দর পরিবেশ দেখে ভালো লাগছে তাদের।

তাদের জীবনযাত্রাকে আরো সহজ করতে আজ প্রত্যেকটি পরিবারকে একটি করে চুলাসহ গ্যাস সিলিন্ডার উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসন থেকে। আর এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। তিনি বলেন, আমি এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি দেখে অভিভূত হয়েছি। আমার ধারণা এটি আদর্শ একটি গ্রাম হয়ে উঠবে। যাতে সব ধরনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদির, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাগুফা হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার, মাছুমা আক্তার, উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুনায়েত আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, যশোদল ইউপি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদির বলেন, আমরা দায়সরা গোছের কোনো আশ্রয়ণ করতে চাইনি। সুপরিকল্পিতভাবে এই আশ্রয়ণের ডিজাইন করা হয়েছে। সৃজনশীলতা দিয়ে এটিকে সাজানো হয়েছে। যেন এখানে যারা বসবাস করবে তারা সুন্দর পরিবেশ পায়। কোনো কিছুরই যেন ঘাটতি না থাকে। এ জন্য বাজেটের দিকে আমরা তাকাইনি। যেভাবে হোক উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে দিয়ে হলেও দৃষ্টিনন্দন ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সন্বলিত একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প করতে চেয়েছি। আমার বিশ্বাস আমরা যা করতে চেয়েছি তা-ই করতে পরেছি এখানে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন বাকি রয়েছে এখানে বসবাসকারী গরিব লোকদের জীবনমান উন্নয়নের কাজ। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঋণসহ সরকারি যত সুযোগ-সুবিধা তার সবগুলোতে তাদের যুক্ত করার প্রচেষ্টা করা হবে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ১২৪৭টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭৮টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে।



সাতদিনের সেরা