kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

ঘরে মা-ছেলের লাশ শুনে এলো পুলিশ, দরজা ভেঙে দেখল 'নাটক'!

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৩০ জুলাই, ২০২১ ২১:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরে মা-ছেলের লাশ শুনে এলো পুলিশ, দরজা ভেঙে দেখল 'নাটক'!

বসতঘরে মা ও ছেলের মৃতদেহ পড়ে আছে। সেই দৃশ্য দেখতে বাড়ির আশপাশে শত শত উৎসুক জনতা। এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। তবে ঘরের দরজা ভেঙে মৃত নয়, জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মা ও ছেলেকে। শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

মূলত, স্বামী আবুল কালামের সঙ্গে তার স্ত্রী আমেনা বেগমের মধ্যে বিরোধের জের ধরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে জিহাদকে নিয়ে এমন ঘটনা তৈরি করে মা ও ছেলে। এসময় তাদের দুজনকে বেশ বিপর্যস্ত দেখা যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মচারি আবুল কালামের সঙ্গে তার স্ত্রী আমেনা বেগমের বিরোধ দীর্ঘদিনের। স্ত্রীর অভিযোগ, নানা কারণে তার ওপর নির্যাতন চালান স্বামী। এই নিয়ে গ্রামের একাধিক সালিস দরবারও হয়েছে। কিন্তু তাতেও সমাধান হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আমেনা বেগম পৃথক ঘরে তার ছোট ছেলে জিহাদকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তারপর আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাদের কোনো সাড়া শব্দ নেই। এই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন সংবাদ জানানো হয় পুলিশকে। তারপর ঘটনাস্থলে ছুটে যান চাঁদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহীউদ্দিনসহ সদর মডেল থানা পুলিশ কর্মকর্তারা।

তারা বিকেলেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় মা ও ছেলেকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন। তবে ঘটনা সম্পর্কে আমেনা বেগম বলেন, স্বামীর লাগাতার নির্যাতনের শিকারে বিপর্যস্ত তিনি। তাই ছেলেকে নিয়ে এমন ঘটনা সৃষ্টি করেছেন।

আমেনা বেগমের বড় ছেলে আরিফ হোসেনের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী ছালমা বেগমও জানান, বিয়ের পর থেকে শ্বশুর এবং শাশুড়ির মধ্যে নানা বিরোধ দেখে আসছেন। আমেনা বেগমের স্বামী আবুল কালামও এমন বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন। এই নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ দরবারের কথা জানান মোফাজ্জল শেখ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহীউদ্দিন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মা ও ছেলে একঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। অথচ তারা মারা গেছেন এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে। পুলিশকেও মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তবে এই পরিবারের এমন ঘটনা কেনো ঘটছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।   



সাতদিনের সেরা