kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

করোনা পরীক্ষায় দিতে হয় টাকা, দেওয়া হয় না রসিদ

রোকনুজ্জামান মানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)    

৩০ জুলাই, ২০২১ ২০:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরীক্ষায় দিতে হয় টাকা, দেওয়া হয় না রসিদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে করোনা পরীক্ষার নামের নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনা পরীক্ষা করতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, মাইকিং করে বিনামূল্যে টেস্টের কথা বললেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। প্রতিজনের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলেও জানান তারা। হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানুষজনের করোনা উপসর্গ থাকলেও তা পরীক্ষা করতে অনীহা দেখা গেছে। এতে উপজেলায় দ্রুত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন অনেকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে এ উপজেলায় ২৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। মারা গেছেন ২ জন।

সূত্রটি আরো জানায়, জুলাই মাসে করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে হওয়ার কথা। কিন্তু উলিপুর হাসপাতালে বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করোনা পরীক্ষা করতে আসা লোকজনের কাছ থেকে ইচ্ছা মতো টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে করোনা পরীক্ষার নামে টাকা আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। সাধারণত সরকারি টাকা গ্রহণ করতে হলে রসিদ দিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নমুনা দাতাদের কাউকে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের অধিকাংশ পরিবারেরই দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস। বর্তমান এ উপজেলায় করোনার প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিটি বাড়িতে করোনা উপসর্গ জ্বর, সর্দি, হাচি, কাশি রোগী রয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভীতি সবার মনে কাজ করছে। কিন্তু করোনা পরীক্ষার নামে টাকা আদায় করায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

করোনা পরীক্ষা করতে আসা দলদলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ সরকার জানান, টাকা নিলেও কিছু করার নেই। এদের সাথে তর্ক করে লাভ নেই। যা চাইবে তাই দিতে হবে। এক হাজার টাকা চাইলেও তা দিতে হবে। এদের কাছে আমরা অসহায়!

উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাইজিদ ও আতাউর রহমান তাদের খালা এবং দাদির করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরীক্ষার জন্য সরকারি হাসপাতালে আসেন। তাদের কাছ থেকেও ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

করোনা উপসর্গ না থাকলেও ধামশ্রেণি কাশিয়াগাড়ি এলাকার দুই বন্ধু মাজেদুল এবং মামুন মিয়া করেনা পরীক্ষা করতে আসলে তাদের কাছ থেকেও ২০০ করে টাকা নেওয়া হয় বলে জানান তারা।

করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজি (এমটি) রেজাউল ইসলাম ও তাজুল মিয়া টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. ইয়াছির আরাফাত বলেন, নতুন যোগদান করেছি। করোনা পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, করোনা পজিটিভ হয়ে হোম আইসোলেশনে রয়েছি। করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, জুলাই মাসে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা করার কথা। তবে করোনা পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা