kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

দশ দিনেও খোঁজ মেলেনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা মনেক্কার স্বজনদের

চিকিৎসার দায়িত্ব নিলো ‘দেবীদ্বার দরিদ্র রোগী কল্যাণ সমিতি’

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

৩০ জুলাই, ২০২১ ১৪:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দশ দিনেও খোঁজ মেলেনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা মনেক্কার স্বজনদের

দশ দিন অতিবাহিত হতে চললেও সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত মানসিক প্রতিবন্ধী মনেক্কা (মমতাজ) বেগমের (৭৫) পরিচয় পাওয়া যায়নি। তিনি দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দোতলায় পুরুষ ওয়ার্ডের ১২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভাঙা পায়ের যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছেন। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাত সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মীরপুর পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্নে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ওই নারী পা ভেঙে সড়কে পড়েছিলেন। ওখান থেকে একজন পুলিশ সদস্যের অনুরোধে একজন সিএনজিচালক তাকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের নিয়ে আসে। প্রথম দিকে হাসপাতালের বেডে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ আর খাদ্য সরবরাহে চলছিল তার দিনযাপন। বিছানাতেই শৌচকর্ম সারতেন তিনি। পরে আশপাশের বেডের রোগীদের অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মঞ্জুর হোসেনের সহযোগিতায় তাকে পরিচ্ছন্ন করে ক্যাথেটর লাগিয়ে নিজ দায়িত্বে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার উন্নত চিকিৎসা এবং নার্সিং প্রয়োজন। বেওয়ারিশ রোগী হওয়ায় তাকে দেখভালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গতানুগতিক নার্সিং সেবার বাহিরে বিশেষ কোনো সুযোগ নেই। 

শুক্রবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মনেক্কা বেগম মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের বেডে পড়ে কাতরাচ্ছেন। তার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা। সমস্ত শরীরজুড়ে চুলকানি হয়েছে। তার পরিচয় জানতেই হাউ মাউ করে কাঁদেন, প্রশ্ন করলে চুপ থাকেন। একপর্যায়ে তার নাম মনেক্কা বেগম, পিতা আমজাদ খান, ঢাকা মীরপুরের ১২ নম্বর এলাকায় বাসা বলে জানান। স্বামী-সন্তান আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাই, তার বিয়ে হয়নি। তার ৬ বোন রেখা, শান্তা, করুনা, অরুনা, নিলু, মনেক্কা এবং ২ ভাই পনির ও মামুন। ২ ভাই উকিল, কোর্টে চাকরি করেন। তিনি কীভাবে এখানে আসলেন সে সম্পর্কে বলেন, ঢাকা থেকে হাঁটতে হাঁটতে এখানকার গোমতী নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছেন বলে জানান।

তার চিকিৎসাসেবার দায়িত্ব নিয়েছে ‘দেবীদ্বার দরিদ্র রোগী কল্যাণ সমিতি’। বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘দেবীদ্বার দরিদ্র রোগী কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য এবিএম আতিকুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে যাবতীয় চিকিৎসাখরচ ‘দরিদ্র রোগী কল্যাণ সমিতি’র পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে। এ ব্যপারে ‘দেবীদ্বার দরিদ্র রোগী কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির এবং সদস্য সচিব উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  

রোগীর সমস্যা বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.  মঞ্জুর হোসেন ও সিনিয়র নার্স জিন্নাত-আরা বেগম জানান, মনেক্কা (মমতাজ) বেগম ঈদের আগের দিন রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বারান্দায় পড়েছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সহায়তায় ওখান থেকে এনে তাকে ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, উনার বাঁ পা ভাঙা, পেটে ব্যথা ও ওনার শরীরে স্কিন ইনফেকশন রয়েছে। আজ ১০ দিন পার হয়ে গেলেও উনার পরিবারের কেউ আসেননি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওনাকে কুমিল্লা রেফার করা হয়েছে, কিন্তু ওনার পরিবারের কেউ না থাকায় মানবিক কারনে এখানে রেখেই তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা