kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

'এত পানি বাপের জন্মেও দেহি নাই'

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৯ জুলাই, ২০২১ ২১:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'এত পানি বাপের জন্মেও দেহি নাই'

এতো পানি মুই বাপের জন্মেও দেহি নাই। বইষার পানি না কোমলে মোরা রাইন্দা খাইতে পারমু না।’ এ কথাগলো বলছিলেন বেতাগী পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাম রাঢ়ি। গত কয়েকদিনে বৃষ্টির পানি জমে তিনি পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে গত কয়েকদি ধরে একটানা প্রবল বর্ষণ ও দমকা বাতাসে বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িসহ ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার রাতে দমকা বাতাসের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ।

জানা গেছে, গত সোমবার মধ্যরাত থেকেই উপকূলে একটানা প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। গত তিন দিন যাবত সারাদিন-রাত প্রবল বর্ষণ ছিল। মাঝে মধ্যে দমকা বাতাস। আজ বৃহস্পতিবার সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে প্রকৃতি অন্ধকার রূপ ধারণ করে রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার জানান, বৃষ্টির পানিতে ৭৩০ হেক্টর আমন বীজতলা ও ৯৫০ হেক্টর আউশ ধানের ক্ষেত সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১২০ হেক্টর সবজি ও ১০ হেক্টর পানসহ অন্যান্য মৌসুমী ফসলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে বীজ তলার তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু শাকসবজি নষ্ট হবে।

এ অঞ্চলের অতীতের ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী সাইক্লোন সুপার সিডর, ২০০৯ সালের আইলা, মহাসেন ও ফণিসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে গবাদি পশু ও মানুষের প্রাণহানীসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নির্ঘুম রাত কাটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, উপজেলার কোথাও ক্ষতিগ্রস্তের খবর পাওয়া গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা করা হবে।



সাতদিনের সেরা