kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

'ভার্চুয়াল তওবায়' করোনামুক্তি নিয়ে পীরের ভণ্ডামি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৯ জুলাই, ২০২১ ২১:০৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'ভার্চুয়াল তওবায়' করোনামুক্তি নিয়ে পীরের ভণ্ডামি

লিয়াকত আলী খান।

'সর্ব রোগের দাওয়াই লাঠির বাড়ি ও পানি পড়া' সেই পীরের এবার দাবি, মোবাইলে বা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে তাঁর তওবা পড়লেই কোনো ধরনের ওষুধ ছাড়া করোনা মুক্ত হবে। দেশের বাইরের আক্রান্ত রোগীরাও এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবেন। এ ধরনের দাবি তুলে ধরে গতকাল বুধবার তিনি নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল উপজেলার তারেরঘাট এলাকার লিয়াকত আলী খান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পীর দাবি করে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিভিন্ন ধরনের রোগীদের চিকিৎসা দেন। দুইটি পদ্ধতি অবলম্বন করে তিনি এ সবের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। একটি হলো লাঠির বাড়ি আরেকটি হলো পানি পড়া। গত প্রায় ৪/৫ বছর ধরে তিনি এই পীরালি করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘মারলে ডাণ্ড রোগ হয় ঠাণ্ডা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকে সাধারন লোকজনের মধ্যে কিছুটা শর্তকতা দেখা দিলেও কিছু দিন পর ফের একই অবস্থা। 

গতকাল বুধবার তিনি নিজ বাড়িতেই সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে বড় ব্যানার করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনের তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, গত ২ এপ্রিল তিনি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় দেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মুক্তিতে সকলের সহয়োগিতা চেয়েছেন। এই অবস্থায় তিনি এর পরেই প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে ডাক যোগে চিঠি দিয়েছেন। তিনি আজ নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু সাড়া পাননি। 

তিনি দাবি করেন, পবিত্রতা ও তওবার মাধ্যমে মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শতভাগ রোগ মুক্তি সম্ভব। বিশেষ করে যারা তাঁর এখানে আসতে পারবেন না তাঁরা ভার্চুয়াল পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর পড়ানোর তওবা করলেই রোগ মুক্ত হবেন। 

তিনি বলেন, গজব আল্লাহর কাছ থেকে আসে আর আল্লাহপাক সস্তুষ্টি পেলেই গজব তুলে নেয়। দেশ এবং দেশের বাইরে যেখানেই করোনা রোগী থাকুক না কেন, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই রোগ মুক্তি সম্ভব। তাঁর এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনের পর এলাকায় চরে আলোচনা সমালোচনা।



সাতদিনের সেরা